প্রতিনিধিশূন্য ইউপিতে সেবা ব্যাহত, সচল গ্রাম আদালত
স্টাফ রিপোর্টার: রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ায় রাজশাহীর ৯টি উপজেলার ৭২টি ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অনুপস্থিতিতে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ ও বিভিন্ন জরুরি প্রত্যয়নপত্র পেতে স্থানীয়দের বারবার পরিষদে দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে।
এতে একদিকে যেমন মানুষের বাড়তি সময় ও অর্থ অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহি ও সরাসরি যোগাযোগের স্বাভাবিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে প্রশাসনিক সেবায় স্থবিরতা দেখা গেলেও বিকল্প ব্যবস্থাপনায় জেলাজুড়ে গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে সচল রয়েছে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৭২টি ইউনিয়নের মধ্যে বর্তমানে ৬৭টিতেই গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চালু আছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত এসব সক্রিয় আদালতে পূর্বের অপেক্ষমাণ ৩৩৭টি, নতুন দায়েরকৃত ৮ হাজার ৪১৮টি এবং জেলা আদালত থেকে পাঠানো ৫৯৪টিসহ মোট ৯ হাজার ৩৪৯টি মামলা আসে।
এর মধ্যে ৯ হাজার ২০৮টি মামলা সফলভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যা মোট মামলার প্রায় ৯৮ শতাংশ। বাগমারা, বাঘা ও পবা উপজেলার একাধিক ভুক্তভোগী জানান, নির্বাচিত প্রতিনিধির অভাবে নাগরিক সনদের মতো সাধারণ কাজের জন্যও বারবার পরিষদে যেতে হচ্ছে। তবে শহরের আদালতে না গিয়ে গ্রাম আদালতে কম খরচে দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির সুবিধা মেলায় সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও সুফল পাচ্ছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ড. স্বপ্নীল রহমান মনে করেন, প্রশাসনিকভাবে বিকল্প উপায়ে সেবা চালু রাখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিকল্প তৈরি করা কঠিন। জনগণের অধিকার রক্ষায় দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা জানান, চেয়ারম্যান না থাকলেও প্যানেল চেয়ারম্যান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে বিচারিক কাজ চালু রাখা হয়েছে। আগামীতে গ্রাম আদালতকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পৃথক সেন্ট্রাল, জেলা ও উপজেলা ডেস্ক প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।
সোনালী/জগদীশ রবিদাস











