ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ - ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতাও জরুরি

  • আপডেট: Tuesday, September 15, 2026 - 9:58 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরবাসীকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সিটি করপোরেশনের (রাসিক) উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাঁরা বলেছেন, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবনসহ আশপাশের কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত দেখতে হবে। জমে থাকা পানি অপসারণের পাশাপাশি পরিত্যক্ত পাত্র, ফুলের টব, ডাবের খোসা, টায়ার ও কনটেইনার পরিষ্কার রাখতে হবে।

মঙ্গলবার সকালে নগর ভবনের সিটি হল সভাকক্ষে রাসিক আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিকের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। অতীতে কোনো সরকার এমন উদ্যোগ নিয়েছে কি না, তা জানা নেই। প্রধানমন্ত্রী কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী এবং তাঁর কর্মী হিসেবে তিনিও কাজে বিশ্বাস করেন।

তিনি আরও বলেন, নগরবাসীকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে রাসিক নিয়মিত জনসচেতনতা সৃষ্টি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করেছে। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন সবাই নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুললে এডিস মশার প্রজননস্থল অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ হিসেবে রাজশাহীর যে সুনাম রয়েছে তা অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি নগরীকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে ইতোমধ্যে দুই লাখ ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মোফাখখারুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাসাবাড়িতে সপ্তাহে একদিন এবং প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে দুই দিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিশেষ কার্যক্রম চালাতে হবে। যেসব এলাকায় বেশি ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া যাবে, সেসব এলাকা চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আজাদ বলেন, রাজশাহীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ায় রামেক হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দিনে বা রাতে যেকোনো সময় ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার কামড়ে সংক্রমণ হতে পারে, তাই ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। রাসিকের সচিব সোহেল রানার সঞ্চালনায় সভায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা কীটতত্ত্ববিদ উম্মে হাবিবা ও বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের কীটতত্ত্বীয় টেকনিশিয়ান মো. আব্দুল বারী ডেঙ্গুর সার্বিক তথ্য উপস্থাপন করেন। রাসিকের উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু রাসিকের গৃহীত পদক্ষেপের তথ্যচিত্র তুলে ধরেন।

সভায় রাসিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলররা, আরএমপির উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাছমিনা খাতুন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক, রামেকের নাক-কান-গলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হক, সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল মুকিত, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও আবাসিক চিকিৎসক ডা. ফজলে রাব্বি রেহান, ইএনটি আবাসিক সার্জন ডা. ইফতেখার আলম মাসুম, ইএনটি রেজিস্ট্রার ডা. মোহা. আসফাক হোসেন, রাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফ.এ.এম. আঞ্জুমান আরা বেগম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ সাঈদ ও বাজেট কাম হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খানসহ পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।