ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ - ১২:২০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাণীনগরে হাটে-বাজারে খলশানি বিক্রির ধুম

  • আপডেট: Monday, September 14, 2026 - 10:32 pm

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে হাটে-বাজারে খলশানি বিক্রির ধুম পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে ভাদ্র মাসের শেষ দিকে রিমঝিম বৃষ্টিতে খাল-বিলের পানি বৃদ্ধি পাওয়াসহ নিম্ম অঞ্চল আংশিক প্লাবিত হওয়ার কারণে বিভিন্ন জাতের মাছ ধরা পড়ায় হাট-বাজারে দেশী প্রজাতির ছোট মাছ ধরার -গ্রাম বাংলার সহজ লভ্য প্রাচীনতম বাঁশের তৈরি উপকরন খলশানি বিক্রির ধুম পড়েছে।

বিভিন্ন হাট-বাজার গুলোতে প্রতিদিন শত শত খলশানি বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার ঐতিহ্যবাহি ত্রিমোহনী হাটের খলশানি পট্টিতে বেচা কেনার জন্য সকাল থেকে হাটের খলশানি পট্টিতে মানুষের ভিড় দেখে বলে দিচ্ছে জমজমাট খলশানির হাট।

জানা গেছে, উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের নিজামপুর, নগর বালুর ঠিকি এলাকা, গোনা ইউপি’র ঝিনা, কৃষ্ণপুর কালিগ্রামের হরিপুর, সদর ইউপি’র খট্্েরশ্বর, পার্শ্ববর্তী গ্রাম রামরায়পুর সহ বিভিন্ন গ্রামের ঋষি সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের স্ত্রী, পুত্র, কন্যাসহ পরিবারের সকল সদস্যরা মিলে এই অবসর মৌসুমে তাদের নিপুণ হাতে বাঁশ ও তালের উপকরন দ্বারা তৈরি খলশানি বাড়ি থেকে পাইকারি বিক্রিসহ উপজেলার ত্রিমোহনী, আবাদপুকুর, বেতগাড়ী, কাটরাশাইন, লোহাচূড়া সহ বিভিন্ন হাটে বিক্রির জন্য পসরা সাজিয়ে রাখে।

বাঁশ, কটের সুতা এবং তাল গাছের আঁশ দিয়ে তৈরি এসব খলশানি মানের দিক দিয়ে ভালো হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অঞ্চল ভেদে বিশেষ করে হাওর ও বন্যা প্রবন এলাকার মাছ ব্যবসায়ীরা বর্তমান মৌসুমের শুরু থেকেই পাইকারি মূল্যে কিনে ট্রাক যোগে খলশানি গাইবান্দা, জয়পুরহাট রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ফলে এখানকার খলশানি তৈরির সাথে জড়িত পরিবারগুলো বর্ষা মৌসুমে এর কদর বেশি ও যথাযথ মূল্য পাওয়ায় মাত্র দুই তিন মাসেই খলশানি বিক্রি করেই তারা প্রায় বছরের খোরাক ঘরে তুলে নেয়। লাভ খুব বেশি না হলেও বর্ষা মৌসুমে এর চাহিদা থাকায় রাত-দিন পরিশ্রমের মাধ্যমে খলশানি তৈরি  করে তারা বেজাই খুশি।

মাপ আকারে খলশানি প্রকার ভেদে প্রতি জোড়া খরচ হয়  ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রি হয় ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা। এতে করে। খুব বেশি লাভ না হলেও বাপ-দাদার পৈত্রিক এই পেশা ছাড়তে নারাজ এই পেশার সাথে জড়িতরা। আধুনিকতার উৎকর্ষের তৈরি ছোট জাতের মাছ ধরার সূতি, ভাদাই, ও কারেন্ট জালের দাপটের কারণে দেশি প্রযুক্তির বাঁশের তৈরি খলশানি এমনিতেই টিকে থাকতে পারছে না। কিন্তু জীবন জীবিকার তাগিদে তারা একেবারে কর্মহীন থাকতেও  চায় না।

ত্রিমোহনী হাটে খলশানি কিনতে আসা কাশিমপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কফিল উদ্দিন জানান, আমি এক জোড়া খলশানি কিনেছি। তবে খলশানির দাম গত বছরের তুলনায় এবার বেশি।

খট্রেশ্বর গ্রামের খলশানি ব্যবসায়ী কৃষ্ণ কুমার জানান, এই ব্যবসায় সংকট থাকলেও আমরা বাপ-দাদার এই পেশা ছাড়তে পারি না।
উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার ইবনু সাব্বির আহমেদ জানান, গ্রাম বাংলার সহজ লভ্য প্রাচীনতম বাঁশের তৈরি উপকরন খলশানি। এই পেশার সাথে রাণীনগরের বিভিন্ন গ্রামের অনেকেই জড়িত। তাদের ব্যবসা প্রসার ও আত্নকর্মসংস্থানের সৃষ্টি লক্ষ্যে এই পেশার সাথে জড়িতরা চাইলে আমরা ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত নারী-পুরুষের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় শর্তস্বাপেক্ষে ঋৃণ গ্রহনের সুযোগ আছে।