ঢাকা | সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ - ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

অপরিকল্পত পুকুরে পবার ৫৫টি পরিবার পানিবন্দি

  • আপডেট: Sunday, September 6, 2026 - 10:27 pm

স্টাফ রিপোর্টার: পবা উপজেলার হুজুরীপাড়া ইউনিয়নের রাধানগর এলাকার ৫৫টি পরিবার অপরিকল্পিত পুকুরের কারনে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে দুটি বাড়ির দেয়াল ধসে পড়েছে, অনেক ঘরে পানি ঢুকেছে। রান্না, চলাফেরা, শিশুদের নিরাপত্তা—সবকিছু নিয়েই চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে বাসিন্দাদের।

সরেজমিনে রোববার রাধানগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানজুড়ে থইথই পানি। সেই পানির মধ্য দিয়েই কেউ প্রয়োজনীয় কাজে বের হচ্ছেন, কেউ ঘরের জিনিসপত্র উঁচু জায়গায় তুলে রাখছেন। পানির কারণে অনেক বাড়িতে রান্নাবান্নাও ব্যাহত হচ্ছে।

কোথাও ঘরের দেয়াল ধসে পড়ার চিহ্ন, কোথাও পানিতে ডুবে আছে সবজি খেত। গৃহিণী মায়া রানী বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে বাড়ির মধ্যে এক হাঁটু পানি জমে আছে। ঠিকমতো রান্না করতে পারছি না, তার ওপর গতকাল রাতে ঘরের মধ্যে সাপ ঢুকে পড়েছিল; বাড়িতে স্বামীও ছিলেন না। বাচ্চাকে কোল থেকে নামাতে ভয় লাগে, মনে হয় কখন কী বিপদ ঘটে—এই কষ্ট আর আতঙ্কের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছে করছে।’‘

আমরা অনেক কষ্টে আছি, ঘরের ভেতর-বাইরে পানি জমে থাকায় স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে গেছে। রান্না, চলাফেরা থেকে শুরু করে সন্তানদের নিরাপদে রাখাও এখন বড় চিন্তার বিষয়। আমাদের এই কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই, কত দিন এভাবে পানির মধ্যে থাকতে হবে জানি না।’

আরেক গৃহিণী ঝরনা বিবি বলেন, ‘পুকুরের কারণে পুরো এলাকা পানির নিচে ডুবে আছে, আমাদের ঘরবাড়ি আর সংসার সবকিছুই পানির সঙ্গে লড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাধানগরের বৃষ্টির পানি প্রতিবছর বিলের পাশের ডোবা ও খালের পথ ধরে বড় বিলে গিয়ে পড়ত। কিন্তু একটি পুকুর বড় করে খনন করার পর সেই পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এবার ভারী বৃষ্টির পর পানি বের হতে না পেরে পুরো এলাকা ডুবে গেছে।

কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, জমে থাকা পানিতে তাঁর লাউ ও মরিচের খেতের গাছ মরে গেছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, আগে কখনো এভাবে পানি জমেনি; পুকুরের ভেতর দিয়ে পানি বড় বিলে চলে যেত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাধানগর এলাকার কৃষক ওয়াজনবীর পুকুরটি বর্তমানে মহসীন আলী ও দুলাল নামে দুই ভাই লিজ নিয়েছেন। তাঁদের কারণে পুকুরের ভেতর দিয়ে পানি যেতে পারছে না।

পুকুরের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা মুকুল আলী বলেন, মালিকের নির্দেশেই পানি নামতে দেওয়া হচ্ছে না। পুকুরে মাছ রয়েছে এবং পানি বের করে দিলে মাছের ক্ষতি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় পানি আটকে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পুকুরটি লিজ নেয়া মহসীন আলী বলেন, ‘আমি ১৬ বছর ধরে এই এলাকায় আছি। আগে পুকুরটি ছোট ছিল, মাছ চাষে সমস্যা হতো। তাই গত বছর মালিক ওয়াজনবীর সঙ্গে কথা বলে পুকুরটি বড় করে কেটেছি এবং পরে লিজ নিয়েছি।’ তাঁর দাবি, পুকুরে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ রয়েছে; পানি বের হয়ে গেলে মাছের ক্ষতি হবে।

জলাবদ্ধতার কারণে কৃষক মোজাম্মেল হোসেনের ঘরের একটি দেয়াল ধসে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘ঘরের দেয়াল ভেঙে পড়েছে, এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব সেটাই বুঝতে পারছি না। আমরা বাধ্য হয়ে ইউএনও স্যারের কাছে অভিযোগ করেছি, ভেবেছিলাম দ্রুত একটা সমাধান হবে। কিন্তু এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি, আমরা প্রতিদিন পানির মধ্যে বসে শুধু অপেক্ষা করছি।’

হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাঁর দেখা মতে, আগে কখনো এলাকায় এত বড় জলাবদ্ধতা হয়নি। পুকুরের কারণে পানি নামতে পারছে না। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।