ঢাকা | সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ - ১০:২৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম

শিবগঞ্জে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

  • আপডেট: Saturday, September 5, 2026 - 9:39 pm

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে স্ত্রীকে ধারালো হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন স্বামী। গত শুক্রবার সন্ধ্যার আগে জেলার শিবগঞ্জ নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের রসিকনগর বাবুপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মনোয়ারা বেগম (৬০) এবং তার স্বামী মফিজুল হক (৭৫)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল মনোয়ারা বেগম ও মফিজুল হকের মধ্যে। এরই জেরে শুক্রবার সন্ধ্যার আগে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মফিজুল হক ধারালো হাসুয়া দিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে হত্যা করেন। পরে ঘরের ফ্যান ঝোলানো হুকের সঙ্গে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

এদিকে, মফিজুল হকের ছেলের বউ শাপলা বেগম জানান, দুপুরে দাওয়াত খেয়ে সন্ধ্যার পর বাড়িতে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে জানালা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে মনোয়ারা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে একজনকে মৃত এবং মফিজুল হককে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে খবর পেয়ে সন্ধ্যার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এদিকে, নিহত মফিজুল হকের ছেলে সেলিম জানান, তার বাবা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। এ কারণে মায়ের সঙ্গে প্রায়ই তার ঝামেলা হতো। ঘটনার সময় মাকে আঘাত করার পর তার মৃত্যু হলে বাবা আত্মহত্যা করেন বলে তিনি জানান। গতকাল শনিবার ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মতিউর রহমান জানান।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, পারিবারিক কলহের জেরেই কথাকাটির এক পর্যায়ে স্ত্রীকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন মফিজুল। পরে তিনি নিজেও ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অধিকতর তদন্ত ও ময়না তদন্তের পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।