ঢাকা | সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ - ১০:৫৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পার্বতীপুরে নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

  • আপডেট: Friday, September 4, 2026 - 9:55 pm

সোনালী ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার শাখা নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পার্বতীপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে ৮ শিশু তলিয়ে গেলে এরমধ্যে ৭ জনকে উদ্ধার ও একজনের মৃত্যু হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পদ্মার শাখা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে সোহান নামে ১০ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার উত্তর উজিরপুর এলাকার সাত্তারের মোড় এলাকায় এই দূর্ঘটনা ঘটে। পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে নেমেছিল সোহান। এক পর্যায়ে তার হাতে থাকা প্লাস্টিকের বোতল ছুটে গেলে সেটি ধরতে গিয়েই পানিতে তলিয়ে যায় সে।

স্থানীয়রা জানান সোহান সাঁতার জানতো না। পরে খোঁজাখুঁজি করে সোহানকে উদ্ধার করে দ্রুত শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ইসিজি পরীক্ষা করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শিবগঞ্জ থানার ওসি মতিউর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তারা। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ নিহত সোহান উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের উত্তর খারোগ্রাম এলাকার সেলিম রেজার ছেলে। সে স্থানিয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলো।

এদিকে পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের আট শিশু পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে হুমায়রা খাতুন (৬) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে গেছে অপর সাত শিশু। গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের ঘনেশ্যামপুর চৈতারপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হুমায়রা খাতুন ওই গ্রামের মামুনুর রশিদের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে একই পরিবারের আট শিশু একসঙ্গে বাড়ির পাশের নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে পানির তীব্র স্রোতে সব শিশুই তলিয়ে যেতে থাকে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় ৪-৫ জন গ্রামবাসী দ্রুত নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাত শিশুকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু হুমায়রা।

উদ্ধার করা সাত শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকরা তাদের শঙ্কামুক্ত ঘোষণা করলে স্বজনেরা বাড়িতে নিয়ে যান।

প্রাণে বেঁচে যাওয়া শিশুদের মধ্যে ‘জাগো রংপুর’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ও পার্বতীপুর প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য সাজেদুর রহমান নওশাদের এক ছেলে ও এক মেয়েও রয়েছে। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া সাত শিশুই পুরোপুরি সুস্থ ও শঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত করেছেন এবং এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।