রামেক হাসপাতালে বন্ধ হচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট, আসছে ‘অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার’
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের বেপরোয়া সিন্ডিকেট ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ এই চিকিৎসাকেন্দ্রে শৃঙ্খলিত পরিবহন সেবা নিশ্চিত করতে চালু হতে যাচ্ছে একটি সুনির্দিষ্ট ‘অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার’।
গত বৃহস্পতিবার রামেক হাসপাতালের সভাকক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি), রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এবং বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালের মুখপাত্র সহযোগী অধ্যাপক ডা. শেখ শামীম আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রস্তাবিত এই অ্যাম্বুলেন্স সেন্টারের মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আরএমপির প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নিবন্ধিত বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও চালকদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
তালিকাভুক্ত গাড়িগুলো নিয়ম মেনে সিরিয়াল অনুযায়ী এবং গন্তব্যের দূরত্ব বিবেচনা করে নির্ধারিত ও যৌক্তিক ভাড়ায় রোগী ও লাশ পরিবহনের সুযোগ পাবে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের জিম্মিদশা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং দালাল চক্রের হয়রানি থেকে পুরোপুরি রক্ষা পাবেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।
এছাড়া এই সমন্বিত উদ্যোগ কার্যকর হলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দীর্ঘদিনের অপ্রয়োজনীয় যানজট নিরসন হবে, যার ফলে মুমূর্ষু রোগীদের বহনকারী যানবাহনগুলো দ্রুত ও নিরাপদে জরুরি বিভাগে প্রবেশ করতে পারবে। একই সাথে সভায় রোগীদের সুবিধার্থে ট্রলি ব্যবস্থাপনা ও বর্ষাকালে জরুরি বিভাগের সামনের জলাবদ্ধতা দূরীকরণেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকেএম মাসুদ উল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) নূর আলম সিদ্দিকী, উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) গোলাম রাব্বানী শেখ, রাজপাড়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিসহ অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। চালক প্রতিনিধিরা কর্তৃপক্ষের গৃহীত এই সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়নে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।











