ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ - ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহীতে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, দেশজুড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা

  • আপডেট: Monday, August 31, 2026 - 10:33 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী নগরীতে এডিস মশার প্রজনন ঘনত্ব বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছানোর মধ্যেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল হান্নান (৩৯) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মৃত আব্দুল হান্নান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা।

সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামিম আহমেদ। হাসপাতাল ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে আক্রান্ত আব্দুল হান্নানকে গত রোববার ভোর ৩টা ৫৪ মিনিটে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামিম আহমেদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ১৭ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়লেও রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। তবে বৃষ্টির সময়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের দিকে বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন।

এদিকে হাসপাতালে রোগীর চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজশাহী নগরীতে এডিস মশার উপস্থিতিও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ কীটতাত্ত্বিক জরিপে রাজশাহী নগরীর ৫টি এলাকায় এডিস মশার ব্রেটো সূচক পাওয়া গেছে ৬১ দশমিক ৩৩, যা গত মে মাসে ছিল ৩০ দশমিক ৬৬। অর্থাৎ মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এডিস মশার প্রজনন ঘনত্বের সূচক দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনামতে, কোনো এলাকায় ব্রেটো সূচক ২০-এর বেশি হলে সেটিকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সে হিসাবে রাজশাহী নগরীর বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বর্ষাকালে বাড়িঘরের আশপাশ, নির্মাণাধীন স্থাপনা, পরিত্যক্ত পাত্রসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঠেকাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি অপসারণ, এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস এবং নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু রাজশাহীই নয়, চলমান বর্ষায় সারা দেশেই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১২ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় এডিস মশার ঘনত্বের ইনডেক্স ২০-এর ওপরে রয়েছে, যা ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডগুলো প্রায় পূর্ণ হয়ে এসেছে। নিজ নিজ এলাকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় বাইরের জেলা শহরগুলো থেকেও রোগীরা ঢাকার হাসপাতালে ছুটে আসছেন, ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মশক নিধনে কার্যকর উদ্যোগের অভাব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও জলাবদ্ধতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও নাজুক রূপ নেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তারা প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন।

অন্যদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এনএস১ পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ১০ শতাংশ শয্যা খালি রাখা, অতিরিক্ত এক লাখ স্যালাইন ব্যাগ মজুত রাখা এবং প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত স্যালাইন পাঠানো নিশ্চিত করা হয়েছে।

সোনালী/জগদীশ রবিদাস