তানোরে জমি নিয়ে কৃষককে মামলার নামে হয়রানি
তানোর প্রতিনিধি: তানোরে জমি নিয়ে বিরোধে কৃষকের ওপর প্রভাবশালীর করা ৮টি মামলা আদালত কর্তৃক খারিজের পর আবারো ১টি মামলা করার খবরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের পাশাপাশি মুখরোচক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এনিয়ে এলাকার কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর তানোর উপজেলা পাঁচন্দর ইউনিয়নের চিমনা গ্রামে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের চিমনা গ্রামের দুবইল মৌজার জেএল নং ৮৫, দাগ নং ৬৬১ পরিমাণ এক একর ৩৩ শতক জমি আর এস খতিয়ান নং ২০৭, রকম ধানী জমি ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত হইয়া দীর্ঘদিন যাবৎ শান্তি পূর্ণ ভাবে চাষাবাদ করে আসছেন চিমনা গ্রামের মৃত সাবির মন্ডলের পুত্র আব্দুল মতিন ও তার ওয়ারিগণ।
তানোর উপজেলার যুগিশো গ্রামের সোনারদীর পুত্র বাবলু ও তার আত্নীয় স্বজনরা ওই জমি নিজেদের দাবি করে ২০১৭ সালে দখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। জমি দখলে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে আদালতে একের পর এক পর পর ৮টি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলা গুলো খারিজ করে দিলেও সম্প্রতি ওই জমি নিয়ে আদালতে আরো একটি মামলা করেছেন বাবলু। আদালত মামলাটি তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তানোর থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ খবরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে, উঠেছে আলোচনা সমালোচনা ঝড়। একের পর এক এভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে কৃষককে হয়রানিকারীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও কৃষকরা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, তাদের কোন ধরনের কাগজপত্র নেই। গায়ের জোরে লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে ৯ বছর ধরে আদালতে একের পর এক মিথ্যে মামলা দিয়ে আমাকে ও আমার ওয়ারিশগণকে হয়রানি করছেন তারা। তাদের দায়ের করা ৮টি মামলা আদালত খারিজ করে দিয়েছেন। আমাদেরকে হয়রানি করতে সম্প্রতি আরো একটি মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আদালতে মামলা করে কাগজপত্র দেখাতে পারে না তখন আদালত মামলা খারিজ করে দেন। এভাবেই একের পর এক মামলা করছে আর আদালত খারিজ করছে। হয়রানিমূলক দায়ের করা মামলার কারণে আমি ও আমার ওয়ারিশগণ আর্থিক ও সামাজিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি বলেও জানান ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল মতিন।
এ ব্যাপারে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে মামলাকারী বাবলু বলেন, আমার জমি মতিন ও তার ওয়ারিশরা দখল করে খাচ্ছে। আপনার করা মামলা আদালত খারিজ করে দিচ্ছে তারপরও কেনো মামলা করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন আদালত মামলা খারিজ করে দিচ্ছে তাই আবারো মামলা করছি, কারণ জমি আমার বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তানোর থানার এসআই খালিদুর রহমান বলেন, মামলার তদন্ত চলছে, জমির কাগজপত্র যাচাই পূর্বক আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।











