ঢাকা | অগাস্ট ১৭, ২০২৬ - ১০:৫৩ অপরাহ্ন

ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নন্দনগাছী কলেজের শিক্ষিকা বরখাস্ত

  • আপডেট: Monday, August 17, 2026 - 10:24 pm

চারঘাট প্রতিনিধি: চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছী ডিগ্রি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষিকা সোহেলী আক্তারকে বরখাস্তের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে।

জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট শিক্ষিকা সোহেলী আক্তার তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ছবি পোস্ট করেন। এর প্রেক্ষিতে সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত কলেজ চত্বরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা সোহেলী আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

তাদের দাবি, ওই শিক্ষিকাকে কলেজে আর চাকরি করতে দেওয়া যাবে না। বিক্ষোভ চলাকালে কলেজ এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ সময় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের কর্মকর্তা, কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

নিমপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব অভিযোগ করে বলেন, ওই শিক্ষক আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি পরিবারের সদস্য। তার বাবা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম। ২০১৩ সালের ৩ জুলাই তিনি নন্দনগাছী ডিগ্রি কলেজে যোগদান করেন।

সম্প্রতি তার কার্যকলাপ নিয়ে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ফেসবুকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি পোস্ট করায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা তার অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষিকা সোহেলী আক্তারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াহেদুল ইসলাম বলেন, চাকরিরত অবস্থায় কোনো শিক্ষক নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারেন না। ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষিকা সোহেলী আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কলেজ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিবেশ শান্ত হয়।