ঢাকা | অগাস্ট ১৬, ২০২৬ - ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতেও গ্যাস সঙ্কট

  • আপডেট: Saturday, August 15, 2026 - 10:55 pm

স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট ও মহেশখালী ভাসমান টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারা দেশের মতো রাজশাহীতেও তীব্র আকার ধারণ করেছে গ্যাস সঙ্কট।

এতে চরম বিপাকে পড়েছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সাধারণ শিক্ষার্থী এবং রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সহস্রাধিক বন্দি। এছাড়াও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে হঠাৎ গ্যাসের চাপ শূন্যের কোঠায় নেমে এলে সরবরাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রুয়েটের ১০টি আবাসিক হলের প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থীর নিয়মিত খাবার সরবরাহ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। বিশেষ করে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলে রান্নার বিকল্প কোনো মাধ্যম না থাকায় ডাইনিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে হল প্রশাসন।

এতে বিপাকে পড়েছেন হলটির অন্তত পাঁচ শতাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী। অন্যান্য যেসব হলে খড়ি বা লাকড়ির চুলা রয়েছে, সেখানে বিকল্প উপায়ে ডাইনিং চালু রাখা হলেও সঙ্কট দীর্ঘ হলে সার্বিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক রবিউল ইসলাম সরকার একে জাতীয় সঙ্কট উল্লেখ করে সাংবাদিকদের জানান, যেসব হলে বিকল্প সুযোগ আছে সেখানে রান্না চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে যেসব হলে ব্যবস্থা নেই, সেগুলোতে দ্রুত অস্থায়ী চুলা বসিয়ে হলেও খাবার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেয়া হবে। একই সঙ্কটের মুখোমুখি হতে হয়েছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষকে। প্রায় দুই হাজার সাতশত বন্দির নিয়মিত রান্না নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা।

তবে সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান, গ্যাস বন্ধ হওয়া মাত্রই দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। খড়ি ও লাকড়ির চুলা ব্যবহার করে বন্দিদের নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পরিবেশন করা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) এস.এম. তারিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, রাজশাহীতে প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সিলেটে ও মহেশখালী ভাসমান টার্মিনালে টেকনিক্যাল জটিলতা ও প্রেশার সঙ্কটের কারণেই মূল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাবেই রাজশাহীতে এই সঙ্কট দেখা দিয়েছে।