বিলুপ্তির পথে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী পাপড় শিল্প
স্টাফ রিপোর্টার: আধুনিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের বাজারজাতকরণ ও আকাশছোঁয়া প্রচারণায় হারিয়ে যেতে বসেছে আবহমান বাংলার বহু শতবর্ষী কুটিরশিল্প। সেই ভিড়ে রাজশাহীর এক প্রান্তে আজও টিকে আছে হাতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী পাপড়। হাজারো প্রতিকূলতার মাঝেও বাপ-দাদার এই ঐতিহ্য ও জীবিকার একমাত্র প্রদীপটি জ্বালিয়ে রাখতে নিরলস সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন নিত্য গোপাল সরকার লালু।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে লালু বাবার হাত ধরে যাত্রা শুরু করে এই পাপড় ব্যবসা। কালের পরিক্রমায় বদলেছে অর্থনীতির হিসাব-নিকাশ। যে পাপড় একসময় বিক্রি হতো মাত্র এক পয়সায়, যুগের পরিবর্তনে তা এখন দাঁড়িয়েছে ১০ টাকায়। বর্তমানে রাজশাহী শিরোইল পূর্বপাড়া জামে মসজিদের পাশের ছোট্ট বাড়িতেই পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে চলছে এই পাপড় তৈরির কাজ। বাইরের কোনো শ্রমিক নয় এক ছেলে, এক মেয়ে, স্ত্রী ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে গড়ে উঠেছে লালুর এই ছোট্ট কুটিরশিল্প। ডাল প্রক্রিয়াজাতকরণ, মণ্ড তৈরি, হাতে পাপড় বেলা, রোদে শুকানো থেকে শুরু করে সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সব কাজই সম্পন্ন হয় পরিবারের সদস্যদের নিপুণ হাতে।
একসময় রাজশাহীর অলিগলিতে এই হাতে তৈরি পাপড়ের ব্যাপক কদর থাকলেও, আধুনিক চিপস ও হরেক প্যাকজাত খাবারের ভিড়ে এর বাজার এখন অনেকটাই সংকুচিত। বাজারে চাহিদা আশঙ্কাজনকভাবে কমলেও পূর্বপুরুষের স্মৃতি আর পরিবারের পেটের টানে কাজ ছাড়েননি লালু। নিজের জীবনসংগ্রামের কথা জানাতে গিয়ে নিত্য গোপাল সরকার লালু বলেন, এই পাপড়ই আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনের উৎস। বাজারে আগের মতো চাহিদা নেই, লাভের অংকটাও তলানিতে। তবুও বাপ-দাদার ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা পরিবারের সবাই মিলে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে এমন অনেক দেশীয় ঐতিহ্য। রাজশাহীর এই হাতে তৈরি পাপড় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি সহায়তা, স্বল্পসুদে সহজ ঋণ এবং বাজার সম্প্রসারণের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। তা না হলে অতি শীঘ্রই শতবর্ষের এই লোকজ শিল্পটি কেবল ইতিহাসের পাতায় স্থান নেবে।











