ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ
সোনালী ডেস্ক: ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ বাগমারায় ইউএনও’র অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মানববন্ধন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ইউএনও অফিসে তালা দিয়েছে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা।
বাগমারা প্রতিনিধি জানান, বাগমারায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি- ২০২৬ এর স্বেচ্ছাসেবী তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহম্মেদকে অপসাণের দাবিতে নিয়োগ বঞ্চিতরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে নিয়োগ বঞ্চিতদের সাথে তাহেরপুর ও ভবানীগঞ্জ পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপির নেতা-কর্মীরাও যোগ দেন।
মানববন্ধন শেষে যুবদল নেতা আসাদুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন- উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অধ্যাপক শামসুজ্জোহা বাদশা, যুগ্ম আহ্বায়ক আলালুর রহমান আলাল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন সানি, উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক হাসানুজ্জামান হাসান, উপজেলা তাঁতীদলের আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ মামুন, ভবানীগঞ্জ পৌর যুবদলের সদস্য সচিব জহুরুল ইসলাম, নিয়োগ বঞ্চিতদের মধ্যে মেহেদী হাসান, মিজানুর রহমান, আমিনুল ইসলাম, এনামুল হক, রাসেল ও মোস্তাফিজুর রহমান। বক্তারা অভিযোগ করেন, বাগমারার ১৬ ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুই ধাপে ১৭৪ জন স্বেচ্ছাসেবী তথ্য সংগ্রহকারী এবং ১৮ জন সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে। কারণ প্রকাশিত তালিকায় বিএনপি পরিবারের কোন প্রার্থীকে রাখা হয়নি। ওই তালিকায় হামিরকুৎসা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সোহেল রানা, একই ইউনিয়ন ছাত্রলীগ কর্মী জাকিরুল ইসলাম, ঝিকরা ইউনিয়ন আ.লীগ সহসভাপতি লোকমান আলীর ছেলে তারেক আহম্মেদ এবং একই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি আনিছার রহমানের ছেলে রায়হান উদ্দীনসহ শুধু আ.লীগ ও জামায়াত পরিবারের লোকজনের নাম রয়েছে। তাছাড়া তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার দুইটি পদেই আউচপাড়া ইউনিয়নে আব্দুর রহিমের ছেলে শাহীন আলমের নাম রয়েছে।
তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়েছে এবং কোন অনিয়ম বা দুর্নীতি করা হয়নি বলে দাবি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহম্মেদ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। সোমবার দুপুরে তালা দেওয়ার পর বিকাল ৪ টায় অফিস সময় শেষ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তালাবদ্ধ ছিলো অফিস। ফটকে তালা দেওয়ার সময় অফিসে ছিলেন না উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও অফিস তেকে বের করে দেয়া হয়েছিলো।
নাচোল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের খোকন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে সোমবার। এতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের কর্মীরা নিয়োগ পেয়েছে। এ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান। এক পর্যায়ে তারা কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। একই সময়ে সমাজসেবা ও সমবায় কার্যালয়েও তালা দেয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের কর্মীরা নিয়োগ পেলে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি এ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগও থাকবে। এই জন্যই আমরা আওয়ামী লীগ ও জামায়াত কর্মীদের নিয়োগ বাতিল চেয়েছি। তিনি বলেন, সন্ধ্যায় দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, দুপুরে বিএনপির লোকজন আন্দোলন করে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল। এখন তালা ঝুলছে কি না, তা ইউএনও বলতে পারবেন। আমার জানা নেই।’
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য একাধিকবার ফোন করেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দাসকে পাওয়া যায়নি।











