ঢাকা | অগাস্ট ৭, ২০২৬ - ১১:২৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম

ঈশ্বরদীতে অতি বৃষ্টিতে প্লাবিত ফসলের মাঠ, মধ্যবিত্তের দীর্ঘশ্বাস

  • আপডেট: Friday, August 7, 2026 - 10:06 pm

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে গত কয়েকদিন ধরেই নিয়মিত ভাবে বৃষ্টি হচ্ছে। এই বৃষ্টির কারণে নিচু জলাভূমিসহ তলিয়ে যাচ্ছে নানা প্রকার মৌসুমি ফসলের ক্ষেত। মৌসুমি সবজির ক্ষেত গুলোতে দেখা দিয়েছে পঁচা বা পঁচনের রোগ। এতে ফসল মাড়াইয়ের আগেজমিতেই পঁচে নষ্ট হচ্ছে। ফসলের এই পঁচন রোধে চাষীদের বারতি পরিচর্যার পাশাপাশি প্রয়োগ করতে হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক। ফলস্রুতিতে উৎপাদন খরচ বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। সে খরচ মেটাতে চাষীরা বাজারে হাকছে উচ্চ মূল্য।

অপরদিকে বাজারে মূল্য বাড়লেও স্বল্প আয়ের মানুষের আয় না বাড়ায় উচ্চ মূল্যের বাজারে স্বল্প আয়ের মানুষের হচ্ছে নাভিশ্বাস। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জানান, চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত ঈশ্বরদীতে মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ১০০ দশমিক ৭ মিলিমিটার। যা অন্যান্য যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশী। তবে এ বৃষ্টিপাত আগামী আরও কয়েকদিন চলমান থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

উপজেলার চরমিরকামারী, ভাড়ইমারী, জগন্নাথপুর, আওতাপাড়া, সিলিমপুর, চরগড়গড়ী মুলাডুলি, সুলতানপুর, পতিরাজপুর, নওদাপাড়া, আমসাড়দাইড় ও বাঘহাছলা মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ঢেঁড়স, পটল, চিচিঙ্গা, ঝিঁঙার অধিকাংশ জমিতে অতি বৃষ্টির কারণে পানি জমে গেছে। পানি জমে নষ্ট হয়েছে মুলার ক্ষেত, ধনে পাতার চারা। অতি বৃষ্টিতে গাছে পঁচন ধরে নষ্ট হচ্ছে ফুলকপি। জমিতে জমাট বাঁধা পানির মধ্যেই ফসল আহরণ করছে কৃষক ও কৃষাণীরা। চরমিরকামারী এলাকার কৃষক আলম সরদার বলেন, আমাদের ঢেঁড়সের ২ বিঘা জমিতে এখন এক হাটু পানি। বৃষ্টি শাথায় করেই সেই জমি থেকে আমরা ঢেঁড়স তুলছি। তবে বেশী বৃষ্টির কারণে গাছে নতুন ফুল আসছে না। আবার গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকায় পঁচন ধরে নষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের অনেক খরচ হয়েছে এই জমিতে। আমাদের ক্ষতি হয়ে গেল। মুলাচাষী আজমল হোসেন জানান, মুলা অত্যন্ত আদরের সবজি। আবহাওয়া সামান্য এদিক সেদিক হলেই এই ফসলে পঁচন ধরে। আমি খাজনা করে প্রতিবছরই মুলা চাষ করি। এবারও করেছি। তবে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পঁচে সব শেষ। শিমচাষী আলেফ প্রামানিক বলেন, সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে আগাম জাতের অটো শিম লাগিয়েছি। পুরো জমিতেই প্রায় আড়াই ফুট করে পানি জমেছে। বৃষ্টি এভাবে চলতে থাকলে পুরো মাঠ তলিয়ে যাবে। তবে এখনও যদি পানি নেমে যাই তবে গাছের ব্যপক ক্ষতি হবে। গাছ শুকিয়ে যাবে। পঁচন রোগ ধরবে।

ঈশ্বরদী উপজেলার সবজির পাইকারী বাজার ঘুরে জানা গেছে, বেগুন ৯০ থেকে ১২০, করলা ৯০, পটল ৫৫, কাঁকরোল ৬০, ঢেঁড়স ৫০, মিষ্টি কুমড়া ৫০ (কেজি), বরবটি ৬০, লাউ আকার ভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৩৫, শসা হাইব্রিড ৫০ দেশী ৯০, চিচিঙ্গা ৪০, মুখি কচু ৫০, চাল কুমড়া ৪০ (প্রতপিচি) ধুন্দল ৩০, ওল ৭০ (কেজি), ঝিঙা ৪৫, গাজর (চায়না) ১৪০, টমেটা ১২০, কাঁচা কলা ২০ টাকা হালি, লেবুর কেজি ৩০, কচুর লতি ৮০, পুঁই শাক ৩০ আঁটি, লালশাক ৩০, কলমি শাক ২০ আটি, কাঠুয়া ডাটা ২০ (আটি), আলু ৩০ থেকে ৩৫, পেঁয়াজ ৫৫, রসুন ৭০, কাঁচা মরিচ ২৫০, আদা ১৪০, ধনিয়া পাতা ৭০ টাকা কেজি। বাজারে আসা দিন মজুর রমজান আলী বলেন, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ। বাজারে এসে দেখছি কোন জিনিসের দামই সাধ্যের মধ্যে নাই। মরিচ ডলে ভাত খাবো তারও দাম ২৫০ টাকা।

মিজানুর রহমান বলেন, বনে বাদারের কচু শাক আর পানির কলমি ছাড়া আমাদের আর উপায় নাই। বাচতি হলি ঐতা খায়েই বাচতি হবি। বাজারের জিনিস এখন বড়লোকেরে। এখানে আমারে কোন কাজ নাই। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, বর্ষার কোন প্রভাব সাধারণত ঈশ্বরদীতে পড়ে না। তবে অতি বৃষ্টির কারণে নিন্মাঞ্চলের কিছু জমির ফসল তলিয়ে যেতে পারে। যেগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে, পানি নেমে গেলে সেগুলো স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আর সারা দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে বাজারে সবজির মূল্য একটু চড়া। এটা সিজোনাল সমস্যা। এটা আমাদের মেনে নিতেই হবে।