ঢাকা | অগাস্ট ২, ২০২৬ - ১১:১৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম

মিলছে চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ: চাঁপাইয়ে লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

  • আপডেট: Sunday, August 2, 2026 - 10:08 pm

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো: চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ হওয়ায় টানা লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেমন বেড়েছে, তেমনি শিল্প, ব্যবসা, কৃষি ও সেবাখাতেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। উৎপাদন কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা, আর বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

বিদ্যুৎ না থাকায় লন্ড্রি, ফটোস্ট্যাট, কম্পিউটার, লেদ ও ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপসহ অসংখ্য ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ফ্রিজ, টিভি, এসি ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার অভিযোগও বাড়ছে। বিসিক শিল্পনগরী, অটো রাইস মিল এবং অন্যান্য উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানে কাজ বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের অলস বসে থাকতে হচ্ছে, অথচ মালিকদের গুণতে হচ্ছে বেতন ও অন্যান্য ব্যয়।

ক্লাব সুপার মার্কেটের ফেরদৌস ট্রেলার্সের মাস্টার মুনীব আলী বলেন, বিদ্যুতের অভাবে সেলাই মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকদের কাছে জামাকাপড় সরবরাহ করা যাচ্ছে না। একই অবস্থা ছোট ছোট গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানগুলোর। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কর্মচারীদের কাজ ছাড়াই বসে থাকতে হচ্ছে, অথচ ব্যয় কমছে না।

চারটি পৌরসভায় বিদ্যুৎচালিত গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তৌফিকুর রহমান জানান, তাদের ২৬ টি বিদ্যুৎচালিত গভীর নলকূপ এবং একটি পাণি শোধানাগারের মাধ্যমে গ্রাহকদের পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে।  কিন্তু দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।

জেলা চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহসভাপতি খাইরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের সঙ্কটে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

বিসিক-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক সাজিদুল ইসলাম জানান, তাদের ২২টি মধ্যে ১৮ টি কারখানা চালু রয়েছে। এসব খারখানার জন্য প্রতিদিন গড়ে ১৮-২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে ৮-৯ মেগাওয়াট বিদ্যুত পাওয়া যাচ্ছে। এখানে চাহিদার মাত্র ৪৫ শতাংশ বিদ্যুৎ পাওয়ায় শিল্পকারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন চালিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

পল্লী বিদ্যুৎ এর জেনারেল মানেজার হাওলাদার ফজলুর রহমান জানান, জেলার ৫টি উপজেলায় প্রতিদিন গড়ে ৮০-৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে ৫০-৫৩ মেগাওয়াট বিদ্যুত পাওয়া যাচ্ছে। যার ফলে এলাকায় দেড়-দুই ঘণ্টা থেকে কোথাও কোথাও ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

নেসকো-১ এর  নির্বাহী প্রকৌশলী মাহিনুর রহমান জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এলাকায় দেড়-দুই ঘণ্টা থেকে কোথাও কোথাও ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে ঢাকার জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুত  ৩০-৪০ মিনিট বন্ধ করে দিচ্ছে।

নেসকো-২ এর প্রকৌশলী সাদিকুল ইসলাম জানায়, প্রতিদিন গড়ে ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে ৬-৮ মেগাওয়াট বিদ্যুত পাওয়া যাচ্ছে। যার ফলে এলাকায় দেড়-দুই ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সঙ্কট নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রশাসন বা বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কোনো সমন্বয় সভা কিংবা জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়নি। মাইকিং বা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মানুষকে বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণ, সম্ভাব্য সময়সীমা কিংবা করণীয় সম্পর্কে জানানো হলে জনমনে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ অনেকটাই কমতো। দীর্ঘস্থায়ী এই লোডশেডিংয়ে এখন জেলার মানুষের একটাই দাবি-দ্রুত স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটানো।