ঢাকা | জুলাই ২৩, ২০২৬ - ১১:১৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

দুর্ভোগে হাজারও মানুষ: দুর্গাপুরে সড়ক খুড়ে লাপাত্তা ঠিকাদার

  • আপডেট: Thursday, July 23, 2026 - 10:17 pm

দুর্গাপুর প্রতিনিধি: দুর্গাপুর পৌর সদর এলাকার প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার পাকা সড়েকের কাজ ফেলে ঠিকাদার লাপাত্তা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যানবাহন চালক ও পথচারীরা। বৃষ্টিতে সেই দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। পাকা সড়কটি হচ্ছে- পৌর সদর এলাকার সিংগা-বহরমপুর হয়ে মাড়িয়া ইউনিয়ন এলাকার চৌবাড়িয়া হয়ে কিসমত হোজা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার। এটি দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলার সংযোগ পাকা সড়ক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুর্গাপুর উপজেলার সিংগাহাট ডিসি হতে বহরমপুর, হোজা, পানানগর হয়ে পুঠিয়া উপজেলা বিড়ালদহ মাজার পর্যন্ত পাকা সড়কের কাজ পায় জে,এম,এম,আর,এন এন্টারপ্রাইজ নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজের ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৬৮ লাখ ৯৯ হাজার ৮৮১ টাকা। সেই প্রতিষ্ঠান হতে সিংগা বাহরমপুর হয়ে হোজা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪কিলোমিটর পাকা সড়ক সংস্কারের জন্য সাব কনট্রাক নেয় অপর ঠিকাদার মুকুল হোসেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় তিন মাসে আগে পুরানো সড়ক খুড়ে দুই পাশে ইট বিছিয়ে রাখা হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাজের আর কোনো অগ্রগতি নেই। প্রায় তিন মাস ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, ভ্যান, অটোরিকশা ও সাইকেল চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা জমে রাস্তা আরও পিচ্ছিল হয়ে পড়ছে, কোথাও কোথাও পানি জমে চলাচলের একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে।

বহরমপুর গ্রামের ভ্যানচালক আফসার আলী বলেন, সংস্কার কাজ শুরুর আগে অন্তত কোনো রকমে চলাচল করা যেত। কিন্তু রাস্তা খুঁড়ে ও দুই পাশে ইট বিছিয়ে কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদার চলে যাওয়ায় এখন দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। পৌর এলাকার চৌবাড়িয়া গ্রামের কৃষক ফয়েজ উদ্দিন বলেন, এই সড়ক দিয়েই আমাদের বিভিন্ন হাট-বাজারে কৃষিপণ্য নিয়ে যেতে হয়। দীর্ঘদিন সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে আমরা ভোগান্তিতে ছিলাম। নতুন করে সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় ভেবেছিলাম এবার হয়তো স্বস্তি পাব।

কিন্তু কাজ শুরুর এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে চলে গেছে। কী কারণে কাজ বন্ধ হয়েছে তা আমরা জানি না। একই এলাকার কলেজ পড়ুয়া ছাত্র আশিকুর রহমান বলেন, প্রায় ৩মাস ধরে কাজ বন্ধ থাকায় এখন সড়কটি একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে কাদা আর জলাবদ্ধতার কারণে কলেজে যেতে কাপড়-চোপড় নষ্ট হচ্ছে। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে এই পাকা সড়কটি দুই উপজেলার দুর্গাপুর ও পুঠিয়ার সংযোগ সড়ক হওয়ায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে দুই উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। কিন্তু কাজ বন্ধ থাকায় তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। পথচারিদের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার কাজ শেষ না হলে এ বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

সড়কের কাজ বন্ধ কেন ? জানতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে দুর্গাপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহাবুল হক বলেন, আমরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। এমনকি আমাদের পৌর প্রশাসক স্যারও তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এর সমাধান হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী রায়হানুল হক বলেন, ঠিকাদার সড়ক নির্মাণকাজ অসম্পন্ন রেখেই চলে গেছে। এ নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। বিষয়টি নিয়ে জেলার মিটিংএ পর্যালোচনা হয়েছে। বর্তমান ঠিকাদারের কার্যাদেশের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করা হবে।