বাঘায় কাঁচা মরিচের দামে আগুন
বাঘা প্রতিনিধি: সপ্তাহের ব্যবধানে বাঘা উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ১৩০ টাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি দরে।
বাঘাতে সবচেয়ে বড় কাঁচা বাজার আড়ানী ও বাঘা বাজারসহ উপজেলার ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বাঘাসহ আশেপাশের উপজেলা গুলোতে টানা বৃষ্টিতে মরিচ ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে বাজারে আমদানি কমে গেছে। সে কারণে মরিচের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে বাঘা শহরের বাঘা বাজার, আড়ানী বাজার, মনিগ্রাম বাজার, দিঘা বাজার, বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির জন্য এলসি খোলা হলেও দেশে মরিচ এসে পৌঁছাবে আগামী শনিবার। চাহিদার তুলনায় কাঁচামরিচ আমদানি কম হওয়ায় এবং বৃষ্টির কারণে দেশে উৎপাদন কমে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় সবজির দামও বাড়ছে। পটল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা ও শসা ১০০ টাকা ও ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা কেজি। মনিগ্রাম হাটে বাজার করতে আসা তছিকুল ইসলাম বলেন, ‘সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি। আগে এক পোয়া নিলেও আজকে ২৫ টাকা দিয়ে নিলাম ১০০ গ্রাম। এভাবে দাম বাড়লে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের চলা কঠিন হয়ে যাবে।’
বাঘা বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ বলেন, ‘কয়েকদিনের বৃষ্টির পানিতে মরিচ নষ্ট হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বাজারে কাঁচামরিচ আমদানি হচ্ছে না। সে কারণে বাহির থেকে বেশি দামে কাঁচামরিচ কিনে আনতে হচ্ছে।’
বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার হামিদকুড়া গ্রামের কৃষক আবু আফজাল বলেন, ‘বৃষ্টির এবং অতিরিক্ত গরমের কারণে মরিচ গাছের পাতা নষ্ট হয়ে গেছে। গাছ মরে যাচ্ছে। ফলে মরিচের উৎপাদন কম হচ্ছে। ১০ কাঠা জমিতে মরিচ লাগিয়েছিলাম। ১৫ দিন পর মাত্র ২০ কেজি মরিচ তুলতে পেরেছি। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে।’
উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ৫০ শতক জমিতে এবার মরিচ আবাদ করেছি। খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকা। মরিচের গাছ বৃষ্টির কারণে মরে যাচ্ছে। আজ ১ হাজার গাছ থেকে মরিচ তুলেছি মাত্র ৪৪ কেজি। পাইকারি ২১০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছি। মরিচের গাছ নষ্টের কারণে ফলন কম হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জনি বলেন, ‘লাগাতার বৃষ্টির কারণে মরিচ চাষিদের ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় ফলন কম হচ্ছে। ফলে মরিচের দাম দিন দিন বাড়ছে।’











