ঢাকা | জুলাই ১৪, ২০২৬ - ৩:৫১ পূর্বাহ্ন

স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্ক বার্তা: বর্ষায় রাজশাহীতে ডেঙ্গুর বড় ধাক্কার আশঙ্কা

  • আপডেট: Monday, July 13, 2026 - 11:06 pm

স্টাফ রিপোর্টার: বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই রাজশাহীসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ও এডিস মশার প্রজনন উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাক-বর্ষা কীটতাত্ত্বিক জরিপে দেখা গেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উচ্চ ঝুঁকির নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে রাজশাহী মহানগরী। ফলে চলতি বর্ষায় রাজশাহীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বড় ধরনের ধাক্কা বা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ইতিমধ্যেই তীব্র জ্বর ও শরীরে ব্যথা নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে ছুটছেন এবং রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এক শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

উচ্চ ঝুঁকিতে রাজশাহী নগরী: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় রাজশাহী মহানগরীর ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। জরিপ অনুযায়ী, মহানগরী এলাকার ৭৫টি বাসাবাড়ির ১৫টিতেই ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৫২টি পানির পাত্রের মধ্যে ২৩টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, ডেঙ্গু ঝুঁকি নির্ধারণী সূচক ২০-এর অধিক হলে সেটিকে উচ্চ ঝুঁকি বিবেচনা করা হয়, যা রাজশাহীর ক্ষেত্রে অনেক বেশি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ায় এডিস লার্ভার প্রজনন ক্ষেত্র আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অথচ বারবার সতর্ক করার পরও সাধারণ মানুষ সচেতন না হওয়ায় সংক্রমণ বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি মাস থেকেই রাজশাহী ও আশপাশের জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়, যখন প্রতিদিন গড়ে ১০ জন করে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতো। গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৪৯৮ জন (প্রকৃত সংখ্যা পাঁচ শতাধিক) ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এর মধ্যে সর্বোচ্চ বগুড়ায় ১৪৭ জন, সিরাজগঞ্জে ৮৯ জন, রাজশাহীতে ৮২ জন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে বেশ কয়েকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, নিজেদের সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় ও জঙ্গল নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে ওষুধ ছিটাতে হবে। মশার উপদ্রব থাকলে মশারি ব্যবহার করা উচিত। বর্তমানে রামেক হাসপাতালে ৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন বলে জানান তিনি।

এদিকে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রেজাউল করিম জানান, বর্ষাকালে অনেকের জ্বর হচ্ছে। তবে যেহেতু ডেঙ্গুর প্রধান লক্ষণ জ্বর ও তীব্র মাথা ব্যথা, তাই কারো জ্বর হলেই অবহেলা না করে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা উচিত। একই সাথে জ্বরের তীব্রতা বাড়লে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন তিনি।