ঢাকা | জুলাই ১০, ২০২৬ - ১:০০ পূর্বাহ্ন

লালপুরে পদ্মার চরে চিনা বাদামের বিপ্লব, ভাগ্য বদলাচ্ছে কৃষকের

  • আপডেট: Thursday, July 9, 2026 - 9:55 pm

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: এক সময় পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ বালুচর বছরের বেশিরভাগ সময় অনাবাদি পড়ে থাকত। এখন সেই চর চিনা বাদামের সবুজ গাছে ভরপুর। স্বল্প খরচে অধিক ফলন, সহজ পরিচর্যা ও বাজারে লাভজনক দাম পাওয়ায় নাটোরের লালপুর উপজেলার চরাঞ্চলে চিনা বাদাম হয়ে উঠেছে সম্ভাবনার নতুন প্রতীক। এতে শুধু কৃষকের আয়ই বাড়ছে না, বদলে যাচ্ছে চরাঞ্চলের অর্থনীতি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ঈশ্বরদী, লালপুর সদর ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের পাঁচটি কৃষি ব্লকের প্রায় ৩ হাজার ৭৫৪ হেক্টর চরাঞ্চলের মধ্যে চলতি মৌসুমে ৪৬৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের চিনা বাদামের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বারি চিনা বাদাম-৮ ও ৯, ঢাকা চিনা বাদাম-১ এবং বিনা চিনা বাদাম-৮ উল্লেখযোগ্য। প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যাচ্ছে।

সরেজমিনে তিলোকপুর, নিমতলী, গৌরীপুর, চর জাজিরা, বিলমাড়িয়া ও নওশারা চরে গিয়ে দেখা যায়, যত দূর চোখ যায় ততদূর পর্যন্ত বিস্তৃত চিনা বাদামের খেত। মৌসুমের শেষভাগে মাঠজুড়ে চলছে চিনা বাদাম উত্তোলনের ব্যস্ততা। কৃষকরা কোথাও জমি থেকে বাদাম তুলছেন, কোথাও আবার গাছ থেকে বাদাম আলাদা করে শুকানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের কৃষক মনজুর হোসেন বলেন, পাঁচ বিঘা জমিতে চিনা বাদাম চাষে তাঁর প্রায় ৮০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় বাজারমূল্য অনুকূলে থাকলে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার বাদাম বিক্রির আশা করছেন তিনি।

রহিমপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন ছানা জানান, পদ্মার বালুচরে চিনা বাদামের ফলন অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় ভালো হয়। বাদাম চাষে সেচ, সার ও কীটনাশকের ব্যবহার তুলনামূলক কম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও কম। পাশাপাশি পাইকাররা সরাসরি মাঠ থেকে বাদাম কিনায় পরিবহন ঝামেলা ও অতিরিক্ত খরচের মুখোমুখি হতে হয় না। তাঁর জমিতে প্রতি বিঘায় ১৩ থেকে ১৪ মণ পর্যন্ত ফলন হয়েছে। বাদাম ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতি মণ চিনা বাদাম ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায় ক্রয় করছি। আশা করি সামনে দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, এতে রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রণ, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন এ, বি ও সি, ওমেগাসহ নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের পুষ্টিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুজ জাহের জানান, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরে শক্তি জোগাতে চিনা বাদাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষের জন্য এটি একটি আদর্শ পুষ্টিকর খাদ্য।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের চিনা বাদাম চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে উৎপাদন সন্তোষজনক হওয়ায় আগামী বছর চরাঞ্চলে এ ফসলের আবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ।