ঢাকা | জুলাই ১, ২০২৬ - ১২:১২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

নানা আয়োজনে রাজশাহীতে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালন

  • আপডেট: Tuesday, June 30, 2026 - 10:43 pm

স্টাফ রিপোর্টার: শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকালে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উদ্যোগে নগরীর আলুপট্টিতে আয়োজিত কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈশা।

জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈশা বলেন, ১৮৫৫ সালের এই দিনে ভারতে নিজ জমি ও অস্তিত্ব রক্ষায় ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্থানীয় অস্ত্র ও তীর ধনুক নিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ন হন।  তিনি বলেন, সিধু, কানহু, চাঁদ ও ভৌরব সম্মুখ থেকে নেতৃত্ব দেন এবং যুদ্ধ করেন। কিন্তু ইংরেজ বাহিনীর গোলাবারুদের সম্মুখে তারা টিকতে পারেননি। তারা যুদ্ধে নিহত হন। আজ সেই দিন। এই দিনটিকে যথাযথভাবে পালন এবং তার দেখানো পথে আদিবাসীদের এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, আদিবাসীরা ভূমির সন্তান। কিন্তু তারা আজ নিজ ভূমি হারিয়ে নিঃশ্ব হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আদিবাসীদের জন্য তাঁর দুয়ার খোলা। একজন জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে সর্বদা আদিবাসীদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সভায় আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়।

একই দিনে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা, র‌্যালি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম র‌্যালির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্যতার জন্য এক সাহসী সংগ্রাম। সাঁওতাল বিদ্রোহ আমাদের শিখায় অন্যায়, বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই পারে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে। এই দিনটি আমাদের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে অনুপ্রাণিত করে। সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবসে আমি সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

এছাড়াও ‘যেখানে অধিকার বঞ্চনা, সেখানেই হুল’ স্লোগানে গোদাগাড়ীর কাঁকনহাটে সিসিবিভিও, রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটি ও গ্রাম সংগঠনসমূহের উদ্যোগে ১৭১তম সাঁওতাল হুল দিবস পালিত হয়। সেখানে শোভাযাত্রা, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সান্তাল হুল দিবসের প্রেক্ষাপট ও মহত্ব্য আলোচনা করেন সিসিবিভিও’র কর্মসূচি কর্মকর্তা যোসেফ রামদাস হাঁসদা। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন রক্ষাগোলা সংগঠনের নেতা রিপন টুডু, জুলিতা মূর্মূ ও রঘুনাথ পাহাড়িয়া। সিসিবিভিও শাখা কার্যালয় থেকে কাঁকনবাজার প্রদক্ষিণ করে কাকনহাট পৌরসভা শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবস পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সভার সভাপতির সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনা সভা শুরু করা হয়।

সাঁওতাল বিদ্রোহের নায়ক দুই ভাই সিধু মুরমু ও কানু মুরমু স্মরণে ও শ্রদ্ধায় সাঁওতালদের অনেকেই দিনটিকে সিধু-কানু দিবস বলে থাকেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের এদেশীয় দালাল সামন্ত জমিদার, সুদখোর, তাদের লাঠিয়াল বাহিনী, দারোগা-পুলিশের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সাঁওতাল নেতা সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব, এই চার ভাইয়ের নেতৃত্বে রুখে দাঁড়ান সাঁওতালরা। সঙ্গে ছিলেন তাঁদের দুই বোন ফুলোমনি মুরমু ও ঝালোমনি মুরমু। ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন যুদ্ধ শুরু হয় এবং ১৮৫৬ সালের নভেম্বর মাসে তা শেষ হয়। সাওতাঁলরা তীর-ধনুক ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করায় ইংরেজ বাহিনীর আধুনিক বন্দুক ও কামানের কাছে টিকতে পারেনি। এ যুদ্ধে ইংরেজ সৈন্যসহ প্রায় ১০-১৫ হাজার সাঁওতাল যোদ্ধা মারা গিয়েছিলো। বিদ্রোহে পর্যায়ক্রমে সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব নিহত হলে বিদ্রোহের পরিসমাপ্তি ঘটে। ঐতিহাসিক সান্তাল হুল দিবস অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সিসিবিভিও’র উর্দ্ধতন কর্মসূচি কর্মকর্তা সৌমিক ডুমরী।