পুঠিয়ায় সরকারি সাবমারসিবল ও পানির ট্যাংক আত্মসাতের চেষ্টা
কাঠগড়ায় ইউপি সদস্য ও ছেলে:
পুঠিয়া প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় জনস্বার্থে স্থাপিত সরকারি সাবমারসিবল পাম্প ও পানির ট্যাংক উপড়ে ফেলে তা নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্য ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে।
প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি সম্পদ কুক্ষিগত করার এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন ও শক্ত ভূমিকার কারণে শেষ রক্ষা হয়নি; তাদের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত আত্মসাতের মুখে পড়া পানির ট্যাংকটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
গত শনিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বারইপাড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন- পুঠিয়া সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রওশনারা বেগম এবং তাঁর ছেলে সোহাগ হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় সর্বসাধারণের নিরাপদ পানি সরবরাহের উদ্দেশ্যে বারইপাড়া গ্রামে একটি সাবমারসিবল পাম্প ও পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়। কিন্তু জনসাধারণের সুবিধার্থে দেয়া সেই রাষ্ট্রীয় সম্পদকেই নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানানোর উদ্দেশ্যে হাত বাড়ান ওই নারী মেম্বার ও তাঁর পরিবার।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই ওই মহিলা সদস্যের বাড়িতে পানির লাইনের কাজ চলছিল। গত শনিবার হঠাৎ দেখা যায়, সরকারি ট্যাংকটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে মূল স্থান থেকে উপড়ে ফেলে সেটি মেম্বারের ছেলের বাড়ির ছাদে বসানো হচ্ছে। এই ন্যাক্কারজনক জালিয়াতির ঘটনা জানাজানি হতেই গ্রামের সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ঘটনাস্থলে জড়ো হন। জনগণের তোপের মুখে পড়ে অভিযুক্তরা তড়িঘড়ি করে ট্যাংকটি অন্যত্র লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা চালায়। তবে উপস্থিত জনতার কঠোর অবস্থানের মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ট্যাংকটি উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্ত সোহাগ হোসেন দায় এড়ানোর চেষ্টা করে বলেন, মা কিছু জানতেন না। আমি ভেবেছিলাম ছাদে বসিয়ে নিচে একটি লাইন দেব, যাতে সাধারণ মানুষও পানি পায়। তবে ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত।
অন্যদিকে অপরাধ ধামাচাপা দিতে মা রওশনারা বেগম অসুস্থতা ও চিকিৎসার অজুহাত তুলে বলেন, আমি বাইরে ছিলাম। আমার ছেলে যা করেছে তা নিন্দনীয়। ট্যাংকটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়া হবে। তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন, খোদ জনপ্রতিনিধির বাড়িতে সরকারি সম্পদ আত্মসাতের এমন তোড়জোড় মায়ের অজান্তে হওয়া কতটা বাস্তবসম্মত?
পুঠিয়া সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সাহাবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুঠিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়েই আমাদের কর্মী পাঠিয়ে ট্যাংকটি উদ্ধার করে উপজেলা কার্যালয়ে আনা হয়েছে। উপড়ে ফেলা সাবমারসিবল পাম্পটিও দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
জনসাধারণের জন্য বরাদ্দকৃত রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যক্তিগত স্বার্থে আত্মসাতের এই অপচেষ্টার ঘটনায় পুঠিয়াজুড়ে ব্যাপক ধিক্কার ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
স্থানীয়দের স্পষ্ট দাবি, শুধু সম্পদ উদ্ধারই যথেষ্ট নয়; সরকারি সম্পদ আত্মসাতের এই প্রকাশ্য চেষ্টার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে এই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।











