আষাঢ়েও বৃষ্টির দেখা নেই: তানোরে আমনের বীজতলা শুকিয়ে চৌচির
সাইদ সাজু, তানোর থেকে: ভরা আষাঢ়েও দেখা নেই কাক্সিক্ষত বৃষ্টির। তীব্র খরা, প্রখর রোদ আর অনাবৃষ্টির কারণে রাজশাহীর তানোরে চলতি মৌসুমে রোপা আমন চাষাবাদ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পানির অভাবে আমনের বীজতলা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে, মাঠের পর মাঠ জমি শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে পড়েছে।
ফলে সময়মতো জমি প্রস্তুত করতে না পেরে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকেরা। অনেকে বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচে গভীর নলকূপ ও সেচ পাম্পের মাধ্যমে পানি দিয়ে বীজতলা বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
গতকাল শনিবার বিকেলে সরেজমিন তানোর উপজেলার কলমা, বাঁধাইড়, পাঁচন্দর, কামারগাঁ, তালন্দ, সরনজাই ও চান্দুড়িয়া ইউনিয়নসহ মুণ্ডুমালা ও তানোর পৌর এলাকা ঘুরে কৃষকদের এই সঙ্কটের চিত্র দেখা গেছে।
মাঠ ঘুরে দেখা যায়, আলু তোলার পর জমিতে রোপণকৃত টি-আমন ধান কাটার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সাধারণত অন্যান্য বছরগুলোতে এই সময়ে টি-আমন ধান কাটার পরপরই কৃষকেরা ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করে রোপা আমন রোপণের কাজ পুরোদমে শুরু করে দেন।
কিন্তু এবার বৃষ্টির অভাবে মাঠের পর মাঠ জমি শুষ্ক ও ধূসর হয়ে পড়ে আছে। আমনের চারা রোপণের উপযোগী হয়ে উঠলেও পানির অভাবে তা মাঠে ছড়ানো যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক চাষি এখনো বীজতলাই তৈরি করতে পারেননি।
উপজেলার কলমা ও বাঁধাইড় এলাকার কয়েকজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, আষাঢ়ের ১৩ দিন পার হয়ে গেল, কিন্তু আকাশের মুখ ভার হলেও বৃষ্টির দেখা নেই। বর্ষার এই মৌসুমে আমরা প্রকৃতির পানির ওপর নির্ভর করেই আমন চাষ করি। রোপণের মূল সময় এখনো কিছুটা বাকি থাকলেও যেভাবে মাঠঘাট শুকিয়ে যাচ্ছে, তাতে সময়মতো বৃষ্টি না হলে চড়া দামে পানি কিনে আমন চাষ করতে হবে। এতে উৎপাদন খরচ এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে যাবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, তানোরসহ সামগ্রিক বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রতি বছরই নিচের দিকে নামছে। ফলে আষাঢ় মাসেও যদি কৃষকদের সেচ পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হয়, তবে তা গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষকের পকেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
তানোর উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আমনের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হলো আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে শ্রাবণের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। তবে এবার মৌসুমের শুরু থেকেই স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে জমিতে সেচ দিতে কৃষকদের বাড়তি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খরচ বহন করতে হবে। এছাড়া খরা পরিস্থিতির কারণে খেতে আগাছা, বিভিন্ন রোগবালাই এবং পোকার আক্রমণ অনেকটাই বেড়ে যায়, যা চূড়ান্তভাবে ধানের ফলন কমিয়ে দিতে পারে। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূরক সেচ ব্যবস্থার জন্য মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।











