ঢাকা | জুন ১৮, ২০২৬ - ৪:০৬ পূর্বাহ্ন

বাগমারায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শিক্ষক দম্পতির থানায় জিডি

  • আপডেট: Wednesday, June 17, 2026 - 11:21 pm

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় ভুক্তভোগী এক শিক্ষক দম্পতি নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। উপজেলার বাড়ীগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাসানুজ্জামান বাদী হয়ে নিজের এবং তাঁর স্ত্রীর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাগমারা থানায় এই জিডি করেন। জিডিতে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বাড়ীগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাসানুজ্জামান ও একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শারমিন সুলতানা সম্প্রতি উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর গত ৭ জুন সকালে এই শিক্ষক দম্পতি বিদ্যালয়ে এলে স্কুলপাড়ার বাসিন্দা শফিউল আলম শিবলী, মোজাম্মেল হক, জয়নাল আবেদিন, মুকুল হোসেন ও মাসুদ রানাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জন ব্যক্তি তাঁদের শারীরিকভাবে নির্যাতন ও মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁদের বিদ্যালয় থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকে চরম নিরাপত্তার অভাবে ওই শিক্ষক দম্পতি এখনো বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না বলে জিডিতে দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, উক্ত শিক্ষক ও শিক্ষিকা যেহেতু সম্পূর্ণ বৈধভাবে বিয়ে করেছেন, সেহেতু তাঁদের বিদ্যালয়ে আসতে বা দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়ার অধিকার কারও নেই। এ বিষয়ে দায়ের করা জিডির প্রেক্ষিতে তাঁদের নিরাপত্তা দিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাট গাঙ্গোপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের এসআই নুরুল ইসলামকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিযুক্ত শফিউল আলম শিবলী, মোজাম্মেল হক, জয়নাল আবেদিন, মুকুল হোসেন ও মাসুদ রানাসহ শিক্ষার্থীদের একাধিক অভিভাবক। তাঁদের দাবি, একজন আদর্শবান শিক্ষক-শিক্ষিকার মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত নিজেদের শালীনতা বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা দান করা। কিন্তু সহকারী শিক্ষক হাসানুজ্জামান ও সহকারী শিক্ষিকা শারমিন সুলতানা নিজেদের শালীনতা বিসর্জন দিয়ে গোপনে বিয়ে করায় স্কুলের মান চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই কারণে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণ তাঁদের প্রতি চরম ক্ষুব্ধ।