ঢাকা | জুন ১৭, ২০২৬ - ২:৫৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

পোরশায় জমে উঠেছে আমের বাজার: হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা

  • আপডেট: Tuesday, June 16, 2026 - 10:48 pm

পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর পোরশা উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমের বাজার পুরোদমে জমে উঠেছে। উপজেলার নোচনাহার বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে এখন দিন-রাত চলছে আম কেনাবেচা। এর মধ্যে উপজেলার নোচনাহার বাজারটি বর্তমানে এলাকার অন্যতম বৃহৎ আম বাজারে পরিণত হয়েছে।

প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয় আমচাষি, বাগান মালিক এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকারি ও খুচরা আম ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখরিত থাকছে পুরো বাজার। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, এই বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা আমের আড়তগুলো থেকে এবার ১ হাজার ৪৩ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার আম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

নোচনাহার ছাড়াও উপজেলার সরাইগাছি মোড়, কালাইবাড়ি বাজার, পোরশা আড়তের মোড় ও গাঙ্গুরিয়া বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে আম কেনাবেচা চলছে। চলতি মরসুমে এসব বাজারে বাহারি জাতের আম কেনাবেচা হচ্ছে। এর মধ্যে বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে আম্রপালি, ব্যানানা ম্যাংগো, বারি-৪, ল্যাংড়া ও খিরশাপাত জাতের আমের। এর পাশাপাশি কিছু অন্যান্য সুস্বাদু জাতের আমও পাওয়া যাচ্ছে। আমচাষিরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আমের ফলন ভালো হয়েছে, তবে তা অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা কম। এবার আমের আকার বেশ আকর্ষণীয় হলেও আবহাওয়া জনিত কারণে রঙে কিছুটা খামতি রয়েছে। তবে আমে অন্য কোনো সমস্যা নেই বলে ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানিয়েছেন।

সরেজমিনে নোচনাহার আম বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিন শত শত অটোভ্যান ও ট্রলিতে করে চাষিরা তাদের বাগানের আম বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসছেন। আর ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি এখান থেকে আম সংগ্রহ করছেন। তবে আমের দাম ও ওজন নিয়ে চাষিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আমচাষি অভিযোগ করে জানান, মৌসুমের শুরুতে আমের দাম কিছুটা কম থাকলেও বর্তমানে আমের মান অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।

তবে বাজারে মণপ্রতি (৪০ কেজির স্থলে) প্রায় ৪৮ কেজি করে আম দিতে হচ্ছে। মণে ৮ কেজি বেশি দিতে হওয়ার কারণে তাদের খুব একটা লাভ হচ্ছে না। বর্তমানে বাজারে আম্রপালি আম প্রকারভেদে প্রতি মণ ২ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছুদিন পর এই আমের দাম আরও বাড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন। অন্যদিকে পাইকারি ক্রেতারা সন্তোষ প্রকাশ করে বলছেন, নোচনাহার বাজারের আমের মান ভালো এবং যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুবিধাজনক হওয়ায় তারা প্রতি বছরই এখান থেকে আম কিনতে আসেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মামুনূর রশিদ জানান, নোচনাহার আমবাজার ও উপজেলার অন্যান্য আম বাজারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শত শত মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। গাছ থেকে আম নামানো, প্যাকেজিং, ক্যারেট তৈরি এবং পরিবহনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় শ্রমিকেরা। এছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা ও যানজট এড়াতে ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই উপজেলায় মোট ১০ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে প্রায় ১ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি করা হবে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে এবং বাজারের বর্তমান ধারা বজায় থাকলে, চলতি মৌসুমে নোচনাহার বাজার ও বিভিন্ন আড়ত থেকে সর্বমোট ১ হাজার ৪৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার আম বাণিজ্য হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।