ঢাকা | জুন ১৫, ২০২৬ - ৪:৩৭ পূর্বাহ্ন

সাবেক আইজিপি বেনজীর দুবাইয়ে গ্রেপ্তার

  • আপডেট: Sunday, June 14, 2026 - 11:15 pm

সোনালী ডেস্ক: বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ। ইন্টারপোলের সহায়তায় এ গ্রেপ্তার সম্পন্ন হয়।

ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার বেনজীরকে দ্রুতই বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আর বেনজীরের কাছে বহু ঘটনার ‘মিসিং লিংক’ পাওয়া যাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দুবাই সিটি পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে। এ বিষয়ে ১২ জুন পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল সহায়তা করেছে। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন একটি মামলা দায়ের করে। সেই মামলার সূত্র ধরেই তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হয়। বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর ও তার স্ত্রী-কন্যাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পৃথক চারটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগে ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর পৃথক চারটি মামলা করে দুদক। মামলায় বেনজীর আহমেদের পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এদিকে দুর্নীতি মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে এবং দ্রুতই তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। গতকাল রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ১২ জুন দুবাই পুলিশ বাংলাদেশ সরকারকে ইমেইলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অবহিত করে। বর্তমানে বেনজীর সেখানে আটক রয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রত্যার্পণ কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, তথ্য গোপন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে তার ঘোষিত আয়ের বাইরে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালতের নির্দেশে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়।

গ্রেপ্তারের পরবর্তী প্রক্রিয়া তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যার্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে। এনসিবি ঢাকা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বয় করে দ্রুতই প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠাবে।” তিনি আরও জানান, ইন্টারপোল, ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো এবং দুবাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেন, “অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।” বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং র‌্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে একাধিক মামলা ও তদন্ত শুরু হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিকে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা করে এবং আদালত পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর ইন্টারপোলের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক রেড নোটিশ কার্যকর হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই গ্রেপ্তার দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি একে “বাংলাদেশ পুলিশের ঐতিহাসিক সাফল্য”বলেও উল্লেখ করেন। এদিকে, বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ। তার কাছে রাজনীতি, ব্যবসা, বিনোদন জগতের ‘বহু ঘটনার মিসিং লিংক’ পাওয়া যাবে বলে দাবি করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে ফারুকী বলেন, ‘বহু গুম, ক্রসফায়ার এবং অজস্র রাজনৈতিক পাপের সাক্ষী বেনজীর দুবাইতে গ্রেপ্তার।’ ‘ভুক্তভোগী পরিবার এবং গোটা বাংলাদেশের জন্য এটা বড় খবর’-উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘এখন অপেক্ষা বিচার পাওয়ার। ফ্যাসিবাদী সময়ের ক্ষত থেকে মুক্তির প্রথম ধাপ বিচার। শুধু জুলাই গণহত্যা না, ষোলো বছরের অপকর্মের বিচার!’

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, ‘বিচারের বাইরেও রাজনীতি, ব্যবসা, বিনোদন জগতের বহু ঘটনার মিসিং লিংক পাওয়া যাবে তার কাছ থেকেই। ক্রাইম থ্রিলার যারা বানাতে চান তারা চোখ রাখতে পারেন!’ এর আগে গতকাল দুপুরে জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোকে ইমেইলের মাধ্যমে সাবেক আইজি বেনজীরকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে। ইমেইলে বলা হয়, দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সেখানেই তিনি বর্তমানে আটক রয়েছেন। সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে আরও বলেন, এনসিবি আবুধাবি জানিয়েছে-ইউএই ফেডারেল ল-এর ২০১৬ সালের ৩৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন করতে হবে। সরকার ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।