ঢাকা | জুন ৬, ২০২৬ - ১:১৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

সীমান্তে ঝড়-বৃষ্টিতে ২৮ জনের মানবেতর অবস্থা, অবশেষে ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নিল বিএসএফ

  • আপডেট: Friday, June 5, 2026 - 10:37 pm

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাংগাবাড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশ-ইনের শিকার হওয়া ২৮ জন ব্যক্তিকে অবশেষে সীমান্ত রেখা থেকে ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় থাকার পর, বর্তমানে তাদের শূন্য লাইন থেকে ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ।

তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সার্বক্ষণিক নজরদারি ও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত এবং স্বাভাবিক রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সীমান্ত ও বিজিবি সূত্র জানায়, গত ৪ জুন ভোরে ওই ২৮ জন ব্যক্তিকে বাংগাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। এ সময় বিজিবির কঠোর বাধা ও তীব্র প্রতিরোধের মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। পুশ-ইন ব্যর্থ হওয়ার পর ওই ব্যক্তিরা ভারত সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ড (শূন্যরেখা) সংলগ্ন এলাকায় আটকা পড়েন।

এদিকে গত দুই দিন ধরে চলা তীব্র ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মতো বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে শূন্যরেখায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাতে হয় আটকে পড়া নারী-পুরুষদের। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সমাধান না হওয়ায় সেখানে এক মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনার পরপরই বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে এবং পরবর্তীতে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা (ফ্ল্যাগ) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর রবিউল ইসলাম জানান, প্রথম দিকে বিএসএফ বিষয়টি তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সিদ্ধান্তের আশ্বাস দিলেও কোনো কার্যকর সুরাহা ছাড়া বৈঠক শেষ হয়।

পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন বিজিবির রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল হোসেন এবং ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল হোসেন সর্বশেষ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জানান, বিজিবির অনড় অবস্থানের মুখে নো-ম্যানস ল্যান্ড এলাকা থেকে পুশ-ইনকৃত ওই ২৮ জন ব্যক্তিকে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ সরিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে তারা শূন্য লাইন হতে ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই বাংগাবাড়ি সীমান্তে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় টহল দিতে দেখা গেছে। বিজিবির পক্ষ থেকে পুরো ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে কড়া পাহারা জোরদার রয়েছে।

এদিকে লালমনিরহাটের তিনটি পৃথক সীমান্তে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে স্থানীয়দের সহায়তায় এ অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে পুরো সীমান্ত এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা এবং আদিতমারী সীমান্তে পুশইনের এ চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয় ও বিজিবি সূত্র জানায়, পাটগ্রাম সীমান্ত (১০ জন), শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুল কামাত পানিসালা (পয়ষট্টি বাড়ী) সীমান্তে ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীনস্থ সীমান্ত পিলার ৮৪৬-এর ১/২ এস-এর মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে ভারতীয় ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা এ চেষ্টা চালায়। এছাড়া হাতীবান্ধা সীমান্ত (১১ জন) ফকিরপাড়া সীমান্তে ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ এলাকায় ১১ জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আদিতমারী সীমান্ত (১২ জন) দীঘলটারি সীমান্তে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ এলাকায় ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা হয়। এর মধ্যে ৯২৫ মেইন পিলারের কাছে ৫ জন এবং ৯২৫/৭ সাব পিলারের কাছে ৭ জনকে দেখা যায়।

এর বিপরীতে রয়েছে বিএসএফের ৭৮ ব্যাটালিয়নের পদ্মা ক্যাম্প এবং বিএসএফের ৩ ব্যাটালিয়নের মদনাকুড়া ক্যাম্প। এদিকে পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির টহল দল ও স্থানীয় জনগণ তীব্র বাধা দিলে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়। পুশইনের শিকার হওয়া এ ১০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, মোস্তফা বিশ্বাস (২৬), আজগার আলী (৫৪), মোর্শেদ (২০), রেহানা বিশ্বাস (২২), ফাতেমা বিবি (৩০), জাহেদা বেগম (৪০), অনুপা (২০), লিসা খাতুন (২৫), তাসলিমা (২৬) এবং একটি শিশু। তারা সকলেই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। দুর্গাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ইউপি সদস্য মোস্তাকিন আলী বলেন, ভারতীয় বিএসএফ ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের বিজিবি সেটি কঠোরভাবে সেটিকে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছে। বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, যাতে কোনোভাবেই ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করতে না পারে।

এ বিষয়ে ৬১ বিজিবি পয়ষট্টিবাড়ী বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমান বলেন, ভোর ৪টা ২০ মিনিটে এ পুশইনের ঘটনা ঘটে। সীমান্তে আমাদের টহল দল উপস্থিত ছিল, তারা তাৎক্ষণিকভাবে এটি প্রতিহত করে। ওই নাগরিকদের বর্তমানে ইন্টারভিউতে রাখা হয়েছে এবং তারা জিরোলাইন থেকে ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে। তিনি আরও জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে বিজিবি অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বর্তমানে বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।