পুঠিয়ায় প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে বাগান কেটে চলছে পুকুর খনন ও মাটি বিক্রি
পুঠিয়া প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার সাতবাড়িয়া দিয়ারপাড়া এলাকায় ফলন্ত আমবাগান নিধন করে তিন ফসলি জমিতে তিন চাকার ট্রাক্টর (ট্রলি) দিয়ে পুকুর খনন ও ইটভাটায় মাটি বিক্রির উৎসব চলছে। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় লোকচক্ষুর আড়ালে নির্বিঘ্নে চলছে এই ফসলি জমি ও বাগান ধ্বংসের প্রক্রিয়া।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে প্রভাবশালী একটি চক্র এই কাজ করলেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমনকি পুলিশের জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে উপজেলার অবৈধ পুকুর খননের নির্দিষ্ট তথ্য থাকলেও তারাও নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসী জানান, পাশের নাটোর জেলা থেকে ‘নয়ন’ নামের এক মাটি ব্যবসায়ী পুঠিয়ায় আসার পর থেকেই তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির ধুম পড়েছে। কোনো এক অদৃশ্য শক্তির জোরে স্থানীয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। নয়নের কারণে এলাকার বহু উর্বর ও ভালো ফসলি জমি এখন পুকুরে পরিণত হয়েছে। এছাড়া দিনরাত মাটি বহনের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাটগুলো ভেঙে নষ্ট হচ্ছে। হালকা বৃষ্টি হলেই মাটি পড়ে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। শিলমারিয়া ইউনিয়ন এলাকার কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে এই অবৈধ কাজ চালানো হচ্ছে বলে সাধারণ মানুষ জানান।
কয়েকজন জমি মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাটায় মাটি দেওয়ার শর্তে তারা নয়নকে জমি দিয়েছেন। জমি মালিকদের দাবি, প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার বিষয়টি ভাটা মালিক ও মাটি ব্যবসায়ীরাই দেখভাল করেন। তারা মাটি নিয়ে পুকুরের চারপাশ বেঁধে মালিককে বুঝিয়ে দিয়ে কাজ শেষ করেন। পুকুর খনন চলাকালীন প্রশাসনের কেউ বাধা দিতে আসেনি বলেও জানান তারা। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ী ও ইটভাটা মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি নয়ন হোসেন বলেন, আমি একটি কলেজের শিক্ষক, কোনটা বৈধ আর কোনটা অবৈধ তা আমি জানি। পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমাকে এই পুকুরটি সংস্কারের অনুমতি দিয়েছেন, আমি সেই অনুযায়ী কাজ করছি। আমি একজন ইটভাটা ব্যবসায়ী, সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়েই ব্যবসা করি।
সংস্কারের নামে সমতল ভূমির আমবাগান কেটে সাবাড় করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ইউএনও সবকিছু জেনেশুনেই তাকে এই অনুমতি দিয়েছেন। এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি অনুমতির কাগজ দেখান। তবে সাংবাদিকরা কাগজটির ছবি বা কপি চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, এই কাগজ আমি দিতে পারব না, এটা ইউএনও অফিস থেকে আপনাদের সংগ্রহ করতে হবে।
তবে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে অনুমতি নেয়ার এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান। তিনি বলেন, আমরা পুকুর খনন বা ফসলি জমি নষ্ট করার জন্য কাউকে কোনো ধরনের অনুমতি দিইনি। কেউ যদি আমার নাম ব্যবহার করে বা অনুমতির দাবি করে, তবে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান আছে।











