ঢাকা | জুন ৬, ২০২৬ - ১:০২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

তানোরে জমিতে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ৭ গরু ও ২ শিয়ালের মৃত্যু

  • আপডেট: Friday, June 5, 2026 - 10:32 pm

তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে ফসলি জমিতে ছিঁড়ে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ৭টি গরু ও ২টি শিয়ালের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তানোর-চৌবাড়িয়া সড়কের কামারগাঁ ইউনিয়নের লবাতলা ব্রিজের দক্ষিণ-পূর্ব কোণের মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত মৃত গরুগুলো দুর্ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলায় প্রচণ্ড বৃষ্টি ও ঝড় হয়। ঝড়ে নেসকোর (সাবেক পিডিপি) মেইন লাইন থেকে লবাতলা ব্রিজের পূর্বদিকের মাঠে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি গভীর নলকূপে দেয়া সংযোগের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায়। ফাঁকা মাঠ হওয়ায় বিষয়টি কারও নজরে আসেনি।

ক্ষতিগ্রস্ত গরুর মালিক সোমাশপুর গ্রামের মোজাফফর হোসেন বলেন, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালে তালন্দ, হরিদেবপুর ও সোমাশপুর এলাকার মানুষজন মাঠের ঘাস খাওয়ানোর জন্য গরুগুলো ছেড়ে দিয়ে নিজেরা তানোর-চৌবাড়িয়া সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ দেখা যায় একের পর এক গরু মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে।

কাছে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুতের ছেঁড়া তার মাটিতে পড়ে আছে এবং সেই তারে জড়িয়ে গরুগুলো মারা গেছে। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দেয়া হলে লাইন বন্ধ করা হয়। তবে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বা বিদ্যুৎ বিভাগের কেউ বিকেল পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আসেননি। তিনি আরও জানান, সকালে খবর পেয়ে তানোর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের নাম-ঠিকানা নিয়ে গেছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মতিউর রহমান জানান, মৃত গরুগুলোর মধ্যে তালন্দ গ্রামের মনজুর রহমানের ১টি দুগ্ধজাত গাভী রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। ১২ দিন আগে গাভীটি বাচ্চা প্রসব করেছিল। এছাড়া মারা যাওয়া আরও ৩টি গাভী গর্ভবতী ছিল। নিহত অন্য গরুগুলোর মধ্যে সোমাশপুর গ্রামের মোজাফফর হোসেনের ৯০ হাজার টাকা মূল্যের ১টি গাভী, হরিদেবপুর গ্রামের সুধা রানীর ৮৫ হাজার টাকার ১টি গাভী, জিতেন চন্দ্রের ৯০ হাজার টাকার ১টি গাভী, গীতা রানীর ১ লাখ টাকার ১টি গাভী এবং একই গ্রামের চোকু রানীর প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের ২টি গাভী রয়েছে।

এছাড়া একই স্থানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২টি বন্য শিয়ালও মারা গেছে। যোগাযোগ করা হলে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) তানোর জোনের সহকারী প্রকৌশলী নাইমুল ইসলাম বলেন, আমরা নেসকোর একজন সাধারণ গ্রাহক মাত্র। এখানে আমাদের কিছু করার বা বলার নেই।

নেসকো তানোর অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী অমিত হাসান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তার ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের কেউ জানায়নি। সকালে গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই আমরা লাইন বন্ধ করে দিয়েছি। ঘটনাটি একদম নির্জন ও ফাঁকা মাঠে ঘটেছে, যেখানে কোনো আবাসিক গ্রাহক নেই। ঝড়ের পর আমরা বিভিন্ন এলাকার খোঁজখবর রাখি, কিন্তু এই ঝড়ের পর কেউ তথ্য দিলে হয়তো এমন দুর্ঘটনা ঘটত না।

তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, আমি বিষয়টি শুনেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তদন্ত করে যদি কারও অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।