আমের রাজ্যে লিচুর বড় সম্ভাবনা, ৬০ কোটি টাকার বাণিজ্যের লক্ষ
জগদীশ রবিদাস: আমের রাজধানী রাজশাহীতে নতুন অর্থনৈতিক আশা জাগাচ্ছে লিচু। চলতি মৌসুমে জেলায় লিচুর বাম্পার ফলন হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে এক বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। বাজারে আগাম জাতের দেশি লিচুর দাপট শেষ হতে না হতেই এখন নামতে শুরু করেছে অত্যন্ত সুস্বাদু ও জনপ্রিয় ‘বোম্বাই’ (বোম্বে) জাতের লিচু।
আগে ভালো মানের লিচুর জন্য রাজশাহীবাসীকে দিনাজপুর বা ঈশ্বরদীর ওপর নির্ভর করতে হতো, কিন্তু এখন সেই চিত্র বদলেছে। রাজশাহীর লিচু এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চালান হচ্ছে। একই সাথে লিচু বাগানগুলো থেকে মিলছে বিপুল পরিমাণ খাঁটি মধু।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার মহানগরী ও ৯টি উপজেলায় মোট ৫২৮ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং সঠিক পরিচর্যার কারণে গত বছরের তুলনায় এবার ফলন বেশ ভালো হয়েছে। এবার দেশি ও বোম্বাই জাত মিলিয়ে জেলায় মোট ৩ হাজার ৭৭৫ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় চাষিদের মতে, সব ঠিক থাকলে এই মৌসুম থেকে জেলায় প্রায় ৫৬ থেকে ৬০ কোটি টাকার এক বিশাল লিচু বাণিজ্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে রাজশাহী মহানগরীসহ বিভিন্ন উপজেলার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি লিচুর জোগান কমে আসায় বাজার এখন বোম্বাই লিচুর দখলে। মৌসুমের শুরুতে কিছুটা তীব্র গরম থাকলেও পরবর্তীতে সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় লিচুর আকার ও রঙ হয়েছে আকর্ষণীয়।
নগরীর বড়বনগ্রাম এলাকার লিচু চাষি লিটন জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাগানে পোকার আক্রমণ ছিল না বললেই চলে, ফলে ক্ষতিকর কীটনাশকও ব্যবহার করতে হয়নি।
পবা উপজেলার লিচু চাষি তইমুর এবং বাঘা উপজেলার সাইদ জানান, দেশি লিচু বিক্রি করে তারা ভালো দাম পেয়েছেন। এখন গাছ থেকে বোম্বাই লিচু নামানো শুরু হয়েছে। ফলের মান চমৎকার হওয়ায় পাইকাররা দূর-দূরান্ত থেকে এসে বাগান থেকেই লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাজারে এখন প্রচুর সরবরাহ থাকায় দামও রয়েছে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে।
গত বছর যেখানে ১০০ লিচু কিনতে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লেগেছিল, এবার ভালো মানের ১০০ বোম্বাই লিচু ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে কেনা-বেচা হচ্ছে। পাইকারি বাজারে বেচাকেনা জমে ওঠায় প্রতিদিন শত শত ট্রাক লিচু চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। লিচুর এই বাম্পার ফলনে বাগান মালিক, চাষি, আড়তদার এবং পরিবহন শ্রমিকসহ এই খাতের সাথে জড়িত হাজার হাজার মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে।
এদিকে, রাজশাহী অঞ্চলের এই নতুন সম্ভাবনা সম্পর্কে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) পাপিয়া রহমান মৌরী বলেন, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে আমের পাশাপাশি লিচুর উৎপাদন কৃষি অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এবার জেলায় প্রায় ৫৬ থেকে ৬০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে। আমরা আশা করছি, এই ধারা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে রাজশাহীর লিচু দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।











