ঢাকা | মে ৮, ২০২৬ - ৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

দুর্গাপুরে পানির দাম নিয়ে দ্বন্দ্ব: বিএমডিএ অপারেটর বরখাস্ত, ৫০ বিঘা জমি পতিত

  • আপডেট: Friday, May 8, 2026 - 12:00 am

দুর্গাপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কিসমত বগুড়া গ্রামে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) এক গভীর নলকূপ অপারেটরের খামখেয়ালিপনায় প্রায় ৫০ বিঘা ফসলি জমি পতিত পড়ে রয়েছে। পানির উচ্চমূল্য নির্ধারণ এবং কৃষকদের সেচ সুবিধা না দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত অপারেটর গোলাম রাব্বানীকে গত ৪ মে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিসমত তেকাটিয়া গ্রামের গোলাম রাব্বানীকে ওই নলকূপের অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই তিনি সেচের পানির জন্য কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে আসছিলেন। গত মৌসুমে পানির তোড়ে ৪ বিঘা জমির উঠতি সরিষা নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে কৃষকদের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় শালিসে সিদ্ধান্ত হয় যে, কৃষকরা সমিতির মাধ্যমে সেচ পরিচালনা করবেন। এতে খরচ অর্ধেকে নেমে আসত। কিন্তু অপারেটর এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে নিজের ইচ্ছেমতো উচ্চমূল্য দাবি করতে থাকেন। যারা তার দাবি মানেননি, তাদের জমিতে পানি দেয়া বন্ধ করে দেন তিনি।

সরেজমিনে কিসমত বগুড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গভীর নলকূপের আওতাধীন বিশাল এলাকাজুড়ে বোরো আবাদ না হওয়ায় জমি খাঁ খাঁ করছে। চাষিদের পতিত জমিতে এখন গরু-ছাগল চরছে। ভুক্তভোগী কৃষক মুজিবুর রহমান ও সমশের আলী আক্ষেপ করে বলেন, যেখানে সমিতির মাধ্যমে ১ হাজার ৮০০ টাকায় সেচ দেয়া সম্ভব, সেখানে অপারেটর ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দাবি করছিলেন। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাদের জমিতে পানি দেয়া হয়নি, ফলে এ মৌসুমে তারা এক মুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারবেন না।

চাষিদের গুরুতর অভিযোগ, তাদের ধানের জমিতে পানি না দিলেও অপারেটর রাতের আধারে পাইপের মাধ্যমে পাশের একটি ব্যক্তিগত পুকুরে পানি সরবরাহ করতেন। ফসলি জমি ফেটে চৌচির হলেও তিনি পুকুরে মাছ চাষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ভুক্তভোগী কৃষক ইয়াসিন আলী গত ১১ মার্চ বিএমডিএ-তে লিখিত অভিযোগ করেন। কর্তৃপক্ষ অপারেটর গোলাম রাব্বানীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। এতে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়।

বিএমডিএ-র দুর্গাপুর অঞ্চলের সহকারী প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অপারেটরকে বরখাস্ত করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন অপারেটর নিয়োগের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। বরখাস্ত হওয়া অপারেটর গোলাম রাব্বানী অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, কৃষকরা ধান রোপণ না করায় তিনি পানি দিতে পারেননি। পুকুরে পানি দেয়ার বিষয়ে তার যুক্তি, মাছ চাষও কৃষির অংশ এবং মাছ মরে যাচ্ছিল বলে তিনি সেখানে পানি দিয়েছেন।