বাঘায় ভিটাছাড়া ৫ সদস্যের পরিবার: ঘর ভেঙে দেয়ায় গোডাউনে মানবেতর জীবন
বাঘা প্রতিনিধি: পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে নিজের বসতঘর ভেঙে দেয়ায় স্ত্রী, সন্তান ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে ব্যবসার গোডাউনে আশ্রয় নিয়েছেন রাজন আলী (৩৬)। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার দিয়াড়পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ছয় মাস ধরে জানালাবিহীন একটি টিনশেড গোডাউনে অত্যন্ত অমানবিক পরিবেশে দিন কাটছে পরিবারটি।
গতকাল বুধবার বাউসা ইউনিয়নের খোর্দ্দ বাউসা গ্রামে সরেজমিনে দেখা যায়, সাটার লাগানো একটি অন্ধকার গোডাউনে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন রাজনের পরিবারের পাঁচ সদস্য। ঘরের ভেতরেই চলছে রান্নাবান্না ও সন্তানদের পড়ালেখা। নেই কোনো শৌচাগার কিংবা নিরাপদ পানির ব্যবস্থা। ভুক্তভোগী রাজন আলী জানান, পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বড় ভাই সোহেল রানার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ। গত বছরের ১১ নভেম্বর সোহেল রানা দলবল নিয়ে এসে তার বসতঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন। মারধর করে ভিটা থেকে বের করে দেয়ার পর নিরুপায় হয়ে নিজের ব্যবসার গোডাউনে পরিবার নিয়ে ওঠেন তিনি।
রাজন আলীর দাবি, দিয়াড়পাড়া মৌজায় তাদের বাবার নামে ২২.৫০ শতাংশ জমি রয়েছে। ১৮ বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর ভাই-বোনদের মধ্যে মৌখিকভাবে জমি ভাগাভাগি হয়। সেই জমিতেই তিনি ঘর তুলে বসবাস করছিলেন। কিন্তু সোহেল রানা জোরপূর্বক ঘর ভেঙে জমি দখলে নিয়েছেন এবং গত ২৩ এপ্রিল সেই জমিতে মাটি ভরাট করতে গিয়ে রাজনকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাজনের স্ত্রী সুরমা বেগম বলেন, ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এই গোডাউনে খুব কষ্টে আছি। জানালা নেই, বাতাস ঢোকে না। বাচ্চারা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারছে না। আমরা দ্রুত নিজের ঘরে ফিরতে চাই। রাজনের নবম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে রাইশা আক্তার রাত্রি জানায়, প্রচণ্ড গরমে গোডাউনে রাতে ঘুম আসে না এবং পড়ালেখায় চরম বিঘ্ন ঘটছে। রাজনের মা রেহেনা বেওয়াও বর্তমানে ছেলের সঙ্গে ওই গোডাউনে থাকছেন। তিনি জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি মৌখিকভাবে বণ্টন করা হয়েছিল, কিন্তু এখন রাজনকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত সোহেল রানার দাবি, রাজন অনেক আগেই ওই জমি ছোট ভাই সুজন আলীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। বিক্রি করার পরও ঘর সরিয়ে না নেয়ায় এবং সেখানে জোর করে বসবাস করতে চাওয়ায় সুজন আলী তাকে থাকতে দিচ্ছে না। স্থানীয় প্রতিবেশীরা ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি উভয় পক্ষকে ডেকে দ্রুত একটি সমাধানের উদ্যোগ নেব।











