ঢাকা | মে ৪, ২০২৬ - ১:৩৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহী কারাফটকে মৃত সন্তানের মুখ দেখলেন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বাবা

  • আপডেট: Sunday, May 3, 2026 - 10:30 pm

স্টাফ রিপোর্টার: কারাগারের উঁচু দেয়াল আর লোহার শিকলও শেষ পর্যন্ত হার মানলো এক বাবার করুণ আর্তির কাছে। কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী আর কারাবিধির গণ্ডি ছাপিয়ে সৃষ্টি হলো মানবিকতার এক অনন্য নজির। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশে মৃত সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ পেলেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দুলাল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা দুলাল দীর্ঘ সময় ধরে রাজশাহী কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। গত শনিবার এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তার আদরের সন্তান আব্দুল্লাহ। বাড়িতে শোকের মাতম আর কারাগারে বন্দি বাবার বুকফাটা হাহাকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় নিহত আব্দুল্লাহর মা ও স্বজনরা দুলালকে শেষবারের মতো তার সন্তানকে দেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাকুল আবেদন জানান।

পরিবারের এই আবেগঘন আবেদনটি তাৎক্ষণিকভাবে মানবিক বিবেচনায় নেয় কারা প্রশাসন। কারা মহাপরিদর্শকের (আইজি প্রিজন্স) মৌখিক সম্মতিতে দ্রুত বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিহত আব্দুল্লাহর মরদেহ নিয়ে আসা হয় কারাগারের প্রধান ফটকে।

কারাগারের গেটে যখন স্ট্রেচারে শোয়ানো আব্দুল্লাহর নিথর দেহ আনা হয়, তখন চারদিকে পিনপতন নীরবতা। নিরাপত্তারক্ষীদের পাহারায় দুলাল যখন সন্তানের মুখ দেখলেন, তখন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। সন্তানের নিথর দেহ আঁকড়ে ধরে তার অঝোর কান্নায় উপস্থিত কারারক্ষী এবং স্বজনদের চোখও ভিজে ওঠে। এক বন্দি পিতার এমন বিলাপ সেখানে এক বিষাদময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কারাগারের কঠোর আইনের মধ্যেও মানবিক আবেদনকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। আইন ও নিরাপত্তা অটুট রেখেই এক বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করা হয়েছে। বন্দিদের প্রতি কারা প্রশাসনের এমন সংবেদনশীল আচরণ একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।