ঢাকা | মে ৪, ২০২৬ - ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

তানোরে জাল দলিল ও প্রতারণা: সাব-রেজিস্ট্রারসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

  • আপডেট: Sunday, May 3, 2026 - 10:18 pm

তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে এক বিধবা নারীর জমি ও সেচ পাম্প দখলের উদ্দেশে জাল দলিল তৈরির অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী রাশিদা বিবির দায়ের করা এই মামলায় তৎকালীন সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, তালন্দ ইউনিয়নের আড়াদিঘি গ্রামের বাসিন্দা মৃত আইনুল ইসলামের স্ত্রী রাশিদা বিবির প্রায় ৩০ লাখ টাকার সম্পদ হাতিয়ে নিতে জালিয়াতির আশ্রয় নেন ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউল ইসলাম। ২০২২ সালে আইনুলের মৃত্যুর মাত্র তিন দিন পর সাফিউল দাবি করেন যে, তিনি ২০২১ সালে জমি ও সেচ পাম্পটি কিনে নিয়েছেন। তবে রাশিদা বিবি দলিল দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান।

পরবর্তীতে তানোর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে তোলা দুটি দলিলে ব্যাপক অসঙ্গতি পাওয়া যায়। একটি দলিলে জমি কেনার কথা থাকলেও সেচ পাম্পের উল্লেখ নেই। অন্যটিতে পাম্পের কথা থাকলেও সরকার নির্ধারিত ৬ শতাংশ কর পরিশোধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কর ফাঁকি দিয়ে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনে করা এই দলিলগুলো আইনত অবৈধ। ২০২২ সালের আগস্টে রাশিদা বিবি রাজশাহীর আদালতে জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা করেন।

মামলার বাদি অভিযোগ করেন যে, তানোর থানা পুলিশ এবং পিবিআই (চইও) আওয়ামী লীগ নেতার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে দায়সারা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এর প্রেক্ষিতে বাদি ‘নারাজি’ পিটিশন দাখিল করলে আদালত বর্তমানে সিআইডি-কে (ঈওউ) মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

জমি দখলের পাশাপাশি সেচ পাম্প লিজ নেয়ার নামে সাফিউল ৫ লাখ টাকার একটি চেক দিলেও সেটি ব্যাংকে ডিজঅনার হয়। এ নিয়েও আলাদা মামলা চলছে। এছাড়া, সাফিউল নিজেই দখল দাবি করে একটি মামলা করলে আদালত তা খারিজ করে দেন।

আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, বিপুল মূল্যের পাম্প ও জমি এত অল্প মূল্যে কেনা এবং পাম্পটি সাফিউলের দখলে থাকার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমানে পাম্পটি রাশিদা বিবির দখলেই রয়েছে এবং সিআইডি তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযুক্ত সাফিউল ইসলাম এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, বিষয়টি আদালতেই ফয়সালা হবে।