তানোরে এক মণ ধান বিক্রিতে উঠছে না শ্রমিকের মজুরি
লোকসানের মুখে কৃষক:
তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এবং শ্রমিক সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। বর্তমানে এক মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরিও উঠছে না। এতে চাষিরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ে ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
জানা গেছে, এবার বাইরের জেলা থেকে মৌসুমী শ্রমিক না আসায় স্থানীয় শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষকদের। ফলে শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মজুরি বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে।
স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ ধান (২৮ কেজিতে এক মণ) ৮৩০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং ৪০ কেজিতে এক মণ ১১০০ থেকে ১১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অথচ একজন শ্রমিককে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে ৬০০-৬৫০ টাকা। আর বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ করালে মজুরি গুনতে হচ্ছে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। এছাড়া ধান মাড়াইয়ের জন্যও শ্রমিকদের আগের চেয়ে বেশি ধান (২০ কেজি পর্যন্ত) দিতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মতে, জ্বালানি সংকটের কারণে মোকাম থেকে পরিবহন কম আসায় ধানের দাম কমেছে। অনেক কৃষক অভিযোগ করেছেন, সরকারি গুদামে ধান বিক্রির ক্ষেত্রে হয়রানি ও ঘুষের দৌরাত্ম্য থাকায় তারা সরাসরি সরকারি সংগ্রহ ব্যবস্থার সুফল পাচ্ছেন না।
যারা সৎ ও সুদ-ঘুষ এড়িয়ে চলতে চান, তারা গুদামে ধান দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। আলু চাষে ব্যাপক লোকসানের পর এবার ধানেও লোকসান হওয়ায় অনেক কৃষক চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
বিলকুমারী বিল ও আশপাশের এলাকাগুলোতে এখন পুরোদমে ধান কাটা চলছে। বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ মণ ফলন হলেও উৎপাদন খরচ ও মজুরি বেড়ে যাওয়ায় বিঘাপ্রতি ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কৃষকরা। কৃষক শাকির জানান, তিনি তিন বিঘা জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। বিঘাপ্রতি প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচের বিপরীতে লোকসানের পরিমাণ ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা।
প্রান্তিক চাষিদের দাবি, ধানের দাম কম হলেও চালের দাম বেশি। এই বৈষম্য দূর করতে সরাসরি সরকারি হাটে ধান ক্রয় অথবা নির্ধারিত দামে ধান সংগ্রহের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহমেদ জানান, উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৫০ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো বিলের ধান কাটা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।











