ঢাকা | এপ্রিল ৩০, ২০২৬ - ১২:১৮ পূর্বাহ্ন

কোরবানির জন্য প্রস্তুত সাড়ে ৪ লাখ পশু

  • আপডেট: Wednesday, April 29, 2026 - 9:42 pm

স্টাফ রিপোর্টার: ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজশাহীর পশুহাটগুলোর ইজারাদাররা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। রাজশাহীতে কোরবানির জন্য এবার প্রস্তুত রয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার পশু। এর বিপরীতে চাহিদা ৩ লাখ ৭১ হাজার পশু। উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ৯০ হাজার পশু।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানায়, এই জেলায় এবার কোরবানির জন্য ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি বিভিন্ন পশু রয়েছে। এই জেলায় কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি। এই জেলা থেকে উদ্বৃত্ত ৯২ হাজার পশু ঢাকা, চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জেলায় পাঠানো হবে।

কোরবানির আগে শেষ সময়ে পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। গত বছর এই জেলায় কোরবানির জন্য ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৮৯৩টি বিভিন্ন পশু ছিল। গত বছর এই জেলায় কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা ছিল ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪৩৭টি।

খামারিরা বলছেন, গোখাদ্যের লাগামছাড়া দামের কারণে কোরবানির পশুর বাজারে প্রভাব পড়বে। দাম বেশি না হলে লোকসান হবে। যদিও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজশাহী বিভাগে এবারও কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি। তাই দাম খুব একটা বাড়বে না। সহনীয় একটা দাম থাকবে, এতে ক্রেতা-বিক্রেতা কারও সমস্যা হবে না।

রাজশাহীর পবা উপজেলার টিকর গ্রামের খামারি রমজান আলী জানান, তার খামারে ৪ টি গরু আছে, এর মধ্যে ৩টি কোরবানির উপযোগী। তিনি বলেন, ‘গরুগুলো ১ বছর ধরে লালন-পালন করছি। কোরবানির দুই সপ্তাহ আগে থেকে বিক্রি শুরু করব। খামার থেকেই বিক্রির চেষ্টা করব, না হলে হাটে তুলব।’ তিনি বলেন, ‘সব খাবারই কিনে খাওয়াতে হয়। গতবারের তুলনায় এবার গোখাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে ঘাস, ভুট্টা, খৈল ও ভুসির দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। দাম বাড়ার এ ধারা রীতিমতো চিন্তার বিষয়।’

একই উপজেলার নওহাটার খামারি এমদাদুল হক বলেন, তার দুইটি গরু রয়েছে। ‘কোরবানির সময় পশুর দাম কিছুটা বেশি থাকে, এটাও একটা বাড়তি আশার জায়গা। আমাদের গ্রামে এখন প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই একটি বা দুটি গরু আছে। মানুষ মাঠে কাজ করার পাশাপাশি সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে গবাদিপশু পালন করেন। তবে বাইরে থেকে যদি গরু না আসে, তাহলে স্থানীয় খামারিরা ভালো দাম পাবেন।’

রাজশাহীর খামারিরা বলেন, তাদের উৎপাদিত গবাদিপশুর ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ঈদের আগে ভারত থেকে যেন পশু না প্রবেশ করে সেদিকে প্রশাসনকে নজর রাখতে হবে। খামারিরা বলছেন, গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে তারা এরই মধ্যে অতিরিক্ত খরচের চাপে আছেন। এখন জ্বালানি সঙ্কটের জেরে বাড়তি পরিবহন ব্যয়ের কারণে অনেকেই ঢাকায় গরু নিয়ে যেতে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। সার্বিকভাবে তারা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ঢাকার কোরবানির হাটে গরুর সরবরাহ কমে যেতে পারে, যা বাজারদরে প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজশাহীর নওহাটা পশু হাটের ইজারাদার আফজাল হোসেন বলেন, এটি এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ছাগলের হাট। এখান থেকে ব্যাপারিরা ছাগল কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যায়। তাছাড়া সিটিহাট থেকে গরু যায় দেশের বিভিন্ন জেলায়। এবার তেলের দাম বৃদ্ধির কারনে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঈদকে সামনে রেখে বর্তমানে তারা ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে সুষ্ঠুভাবে  কোরবানির পশু কিনতে পারে সেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পশুহাট সিটিহাটের ইজারাদার শওকত আলী বলেন, হাটে এখনও কোরবানির পশু সেভাবে আসতে শুরু করেনি। ঈদ উপলক্ষে ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে শুষ্ঠুভাবে পশু কেনাবেচা করতে পারে তার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একটি সামঞ্জস্য দামে পশু কেনাবেচা হবে বলে তারা মনে করছেন।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আতোয়ার রহমান বলেন, দেশীয় জাতের ষাঁড়গরু সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় জেলায়। পবিত্র কোরবানি ঈদ উপলক্ষে জেলার ৯টি উপজেলায় এবছর পশুপালন বৃদ্ধিতে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস বাণিজ্যিক ও পারিবারিক সকল খামারিদের সাথেই সার্বক্ষণিক যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান, উদ্বুদ্ধ করণ সভা, খামার পরিদর্শন ও গবাদিপশুর সঠিক চিকিৎসাসহ যাবতীয় সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। উৎপাদিত গবাদিপশু বিক্রি করে খামারিরা যাতে ন্যায্যদাম পান সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ঈদ উপলক্ষে হাটগুলোতে নজরদারী বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।