ঢাকা | এপ্রিল ২৯, ২০২৬ - ১:৪০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

বাগমারায় জমি রেজিস্ট্রি ঘিরে ‘গলাকাটা’ সিন্ডিকেট: দলিল লেখক সমিতিতে বিক্ষোভ

  • আপডেট: Tuesday, April 28, 2026 - 9:17 pm

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির বিরুদ্ধে জমি রেজিস্ট্রির নামে সরকারি ফি-র অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এই ‘গলাকাটা’ চার্জ আদায়ের প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার দলিল লেখক সমিতির কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী দাতা ও গ্রহীতারা। এ ঘটনায় উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার সাময়িকভাবে রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার ২.৪৮ শতক জমি রেজিস্ট্রি করতে ভবানীগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির কার্যালয়ে যান দাতা শাহনাজ বেগম ও গ্রহীতা ময়েন উদ্দিন। দলিল লেখা শেষে রেজিস্ট্রির খরচ জানতে চাইলে সরকারি নির্ধারিত ফি-র চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ টাকা দাবি করা হয়। এ নিয়ে দলিল লেখক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে গ্রহীতার বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে গ্রহীতার স্বজন এবং অন্যান্য সাধারণ ভুক্তভোগীরা সেখানে জড়ো হয়ে সমিতির নামে চলা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বর্তমানে সমিতিকে জিম্মি করে রেখেছে। জমির পরিমাণ বা মূল্য যাই হোক না কেন, প্রতিটি দলিল থেকে মোটা অংকের অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগপন্থী কমিটি আত্মগোপনে গেলে নির্বাচন ছাড়াই বিএনপিপন্থী কয়েকজন লেখক একটি ‘পকেট কমিটি’ গঠন করেন। হানিফ, শামসুল ইসলাম, সানাউল ইসলাম, মামুনুর রশিদ ও নাজমুল ইসলামসহ ১০-১২ জনের এই স্বঘোষিত কমিটিই মূলত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের নেপথ্যে কাজ করছে।

জমির গ্রহীতা ময়েন উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি ফি-র বাইরে অন্য কোনো টাকা দেয়ার প্রশ্নই আসে না। কিন্তু দলিল লেখক আমার কাছে দ্বিগুণ টাকা দাবি করেছেন। এটা ওপেন চাঁদাবাজি। তবে অভিযুক্ত দলিল লেখক শহিদুল ইসলাম অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে এক অদ্ভুত যুক্তি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, একটি দলিল সম্পন্ন করতে এক মাস পর্যন্ত শ্রম দিতে হয়। এছাড়া অফিসের বিদ্যুৎ বিল ও সমিতির আনুষঙ্গিক খরচ আছে। তাই ব্যক্তিগত পারিশ্রমিকসহ সরকার নির্ধারিত খরচের বাইরে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা আমি নিতেই পারি।

এদিকে, সমিতির বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে পরিচিত শামসুল ইসলাম জানান, ৫ আগস্টের পর এখানে কোনো বৈধ কমিটি নেই। যে যার মতো ৪ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নিচ্ছে। বাগমারা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে সেখানে সাংগঠনিকভাবে কোনো সমিতির অস্তিত্ব নেই। তবে গণ্ডগোলের প্রেক্ষিতে সাময়িকভাবে রেজিস্ট্রি কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছিল।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এই ‘ভুঁইফোড়’ কমিটির দৌরাত্ম্য বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা করতে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।