ঢাকা | এপ্রিল ২৬, ২০২৬ - ৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

গোদাগাড়ীতে লোডশেডিং-দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত

  • আপডেট: Saturday, April 25, 2026 - 11:00 pm

সঙ্কটে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা:

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি: রাজশাহীর সীমান্তঘেঁষা উপজেলা গোদাগাড়ীতে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অসহনীয় লোডশেডিং।

একদিকে আকাশের তপ্ত রোদ ও লু-হাওয়া, অন্যদিকে বিদ্যুতের অব্যাহত লুকোচুরি এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের। বিশেষ করে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছে এখন বই-খাতার চেয়েও যেন জরুরি হয়ে পড়েছে হাতপাখা। ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা জানায়, সন্ধ্যার পর পড়ার টেবিলে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো আধ ঘণ্টা, কখনো এক ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ ফিরলেও তা থাকছে সামান্য সময়। ল্যাম্প বা মোমবাতির অস্পষ্ট আলোয় ঘামতে ঘামতে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে হচ্ছে তাদের।

কয়েকজন পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামনে পরীক্ষা, অথচ পড়ার টেবিলে মনোযোগ দেয়ার চেয়ে শরীর জুড়াতে হাতপাখা চালাতেই বেশি সময় নষ্ট হচ্ছে। অভিভাবকরা জানান, লোডশেডিংয়ের কোনো নির্দিষ্ট শিডিউল নেই। গভীর রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ করে তুলছে।

এদিকে, কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে সরাসরি ফসলের মাঠেও। সেচ পাম্পগুলো ঠিকমতো চালাতে না পারায় বোরো ধান ও আম বাগানে পানি দেয়া নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। এছাড়া ঘনঘন লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের কারণে বাসা-বাড়ি ও দোকানের ফ্রিজে থাকা পচনশীল দ্রব্য নষ্ট হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও।

রামনগর এলাকার অটোরিকশা চালক সুমন আক্ষেপ করে বলেন, বিদ্যুৎ কখন আসে আর যায় তার ঠিক নেই। ঠিকমতো চার্জ দিতে না পারায় সারাদিন গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। আয় অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে, উল্টো ব্যাটারিও নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গোদাগাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অসহ্য গরমে সাধারণ রোগীদের পাশাপাশি নবজাতক ও বৃদ্ধদের অবস্থা শোচনীয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের জরুরি কার্যক্রম ও প্যাথলজি টেস্টগুলো সময়মতো সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

রামনগর, লালবাগ ও কাঁকনহাটসহ বিভিন্ন এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার মাঝে বিদ্যুতের এমন নাজুক পরিস্থিতি কাম্য নয়। দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের ফলাফল বিপর্যয়সহ জনজীবনে বড় ধরনের সঙ্কট দেখা দেবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ বা সরবরাহ কম থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তারা কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিতে পারেননি।