ঢাকা | এপ্রিল ২১, ২০২৬ - ১২:১১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

রাণীনগরে দোকান ঘর থেকে চলছে পোস্ট অফিসের কাজ

  • আপডেট: Monday, April 20, 2026 - 9:49 pm

রাণীনগর প্রতিনিধি: এক সময় গ্রামীণ জনপদের প্রধান বার্তাবাহক ছিলো পোস্ট অফিস। সময়ের বিবর্তনে এর কার্যক্রম এখন প্রায় তলানীতে। তারপরও চলছে এর কার্যক্রম। এমন এক পোস্ট অফিস চলছে দোকান ঘরে। বলছিলাম নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের আবাদপুকুর পোস্ট অফিসের কথা। উপজেলার সবচেয়ে বড় বাজার আবাদপুকুর। প্রতিদিন এখান থেকে প্রায় সারা দেশে ধান-চালের বড় চাহিদা এই বাজার থেকেই সরবরাহ করা হয়। বাণিজ্যিক গুরুত্বের বিবেচনায় এখানে ব্যাংক, বীমা, এনজিও সহ প্রায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে।

এখানে ব্রিটিশ সরকারের আমলে নির্মাণ করা হয় একটি সাব পোস্ট অফিস। উপজেলার পূর্ব এলাকার গ্রামীন জনপদের প্রধান পত্র বাহক ছিলো এই পোস্ট অফিস। সময়ের ব্যবধানে এর ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকারি নজরদারির অভাবে এলাকাবাসীর চাহিদা মেটাতে একটি দোকান ঘরে প্রায় ৮ বছর ধরে আবাদপুকুর পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চলছে।

সরকার আসে সরকার যায় নানা উন্নয়নমূলক কাজ চললেও এখানে একটি ভবন নির্মাণে কারো যেন মাথা ব্যথা নেই। এই সুযোগে পোস্ট অফিসের জায়গা কাঠেরগুলসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র রেখে দখলের পায়তারা করছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী। এ যেন অভিভাবকহীন একটি সম্পদ। ‘আবাদপুকুর পোস্ট অফিস’ (কোড নং ৫৮৯০)।

আবাদপুকুর পোস্ট মাস্টার এমদাদুল আলম জানান, আমি ১৯৯৮ সালে এই পোস্ট অফিসের মাস্টার হিসেবে যোগদান করি। তখন ছিলো একটি মাত্র মাটির দেওয়ালের ঘর। কাজ কাম শেষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিরাপত্তার সাথে বিভিন্ন জায়গায় গোপনে রাখতে হতো। এই ঘরটি ২০১৬ সালে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলে একটি বাক্্র আর ব্যাগ নিয়ে বাজারের বিভিন্ন দোকানের কোনায় কোনায় বসে সরকারি কাজকাম করতাম।

এমনকি একটি ফলের দোকানে বসে প্রায় ১বছর অফিসিয়াল কাজ করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর বগুড়া জেলা ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল এসে বর্তমানে ‘এস টু কম্পিউটার’ নামক দোকানে বসে সাময়িক ভাবে কাজ চালানোর নির্দেশ দেন। সেই থেকে প্রায় ৮বছর নিজস্ব ভবন ছাড়াই চলছে আবাদপুকুর পোস্ট অফিসের সরকারি সেবা।

পোস্ট অফিসের রানার দুলাল হোসেন বলেন, পুরনো ঘরটি ভেঙে যাওয়ার পর বারবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। এমনকি পোস্ট মাস্টার ও আমি মিলে নিজস্ব অর্থায়নে পোস্ট অফিসের জায়গায় দুটি ইটের ঘর নির্মাণ করতে চাইলেও কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়নি। কর্তৃপক্ষের সাফ নির্দেশ-ব্যক্তিগত টাকায় সরকারি জায়গায় কোনো স্থাপনা করা যাবে না।

দোকান মালিক হারুনুর রশিদ বলেন, আমার দোকানের একটি অংশ নিয়ে প্রায় ৮ বছর ধরে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চলছে। দোকানের মাসিক ভাড়া ৪ হাজার ৪০০ টাকা শত ছিল। ভাড়ার অর্ধেক ২ হাজার ২০০ টাকা পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করবে। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও সেই ভাড়ার টাকাও পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি বিদ্যুৎ বিলও দোকান মালিককেই পরিশোধ করতে হয়।

বাণিজ্যিক এলাকায় পোস্ট অফিসের এমন জরাজীর্ণ দশা মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসী দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান চায়। বগুড়ার ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল আনোয়ার হোসেন জানান, আবাদপুকুর পোস্ট অফিসটি দীর্ঘ ৮ বছর ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে প্রেরণ করেছি। বরাদ্দ প্রাপ্তি স্বাপেক্ষে এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে।