ঢাকা | এপ্রিল ২০, ২০২৪ - ৭:১২ পূর্বাহ্ন

সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে বড় নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি আসছে

  • আপডেট: Saturday, June 24, 2023 - 1:22 pm

অনলাইন ডেস্ক: মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে বড় বিজ্ঞপ্তি আসছে।

এতে ২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কথা রয়েছে। সব সরকারি বিদ্যালয়ের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের শূন্য তালিকা মাঠ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ঈদুল আজহার পর এ তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আগস্ট মাসে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে শুরু করা হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সরকারি বিদ্যালয়) খালেদা আক্তার এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (বিদ্যালয়) মো. বেলাল হোসাইন গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানান।

জানা যায়, দেশের পার্বত্য অঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা, চরাঞ্চল ও অধিকাংশ উপজেলার সরকারি স্কুলে শিক্ষক সংকট চরমে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) যথাযথ পদক্ষেপের অভাব, নতুন শিক্ষক নিয়োগের পরও জেলা ও মহানগরে পোস্টিং এর জন্য দায়ী। রাজধানীসহ মহানগরী ও জেলা পর্যায়ের সরকারি স্কুলগুলোতেও একই অবস্থা।

মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (বিদ্যালয়) মো. বেলাল হোসাইন বলেন, সারাদেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুই হাজারের মতো শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

জেলা পর্যায়ে এ সংখ্যা আরও বেশি। সে কারণে দ্রুত শিক্ষক সংকট নিরসনে আমরা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশে কোথায় কোন বিষয়ের শিক্ষক সংকট সে তালিকা মন্ত্রণালয় থেকে চাওয়া হয়। বর্তমানে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সে তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঈদের আগে সারাদেশের শূন্যপদের তালিকা পাওয়া যেতে পারে। সেটি পেলে আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর জন্য সুপারিশ করবো। যদি বিসিএস পরীক্ষার নন-ক্যাডর থেকে নিয়োগ দেয়া হয় তবে শিক্ষক সংকট পূরণে অধিক সময় লেগে যেতে পারে।

সে কারণে বিশেষভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে সুপারিশ করা হবে। তবে আপাতত শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিসিএস প্যানেল থেকে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পিএসসিতে আবেদন করার কথা রয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে জানা যায়, দেশে ৩৫১টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুল আছে। এসব স্কুলে সহকারী শিক্ষকের পদে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার।

সহকারী শিক্ষকের পদ সাড়ে ১২ হাজার। এর মধ্যে প্রায় দুই হাজার পদ শূন্য। প্রতিদিন গড়ে ৩০-৪০ জন শিক্ষক অবসরে যাচ্ছেন।

সবশেষ ২০২২ সালে সরকারি মাধ্যমিকে দুই হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু এসব শিক্ষককে শহর অঞ্চলে পোস্টিং দেয়ায় সমস্যা কমার পরিবর্তে আরও বেড়েছে।

ফলে সরকারি মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, নতুন শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক সমন্বয় করতে গিয়ে শিক্ষক সংকটের সমাধান হয়নি। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের তালিকা চেয়েছে।

এই তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বছরে দুবার এ তালিকা তৈরি করে দ্রুত নিয়োগ দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মাউশি জানায়, ২০২১ সালের ৩০ জুন সরকারি মাধ্যমিকের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষককে নবম গ্রেডে পদোন্নতি দিয়ে সিনিয়র শিক্ষক করা হয়। পিএসসির মাধ্যমে যিনি সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদে যোগদান করছেন তার পদও নবম গ্রেড।

মূলত সিনিয়র শিক্ষক পদ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদের গ্রেড একই হওয়ায় সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি আটকে আছে। সে কারণে শিক্ষক পদোন্নতির নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সারাদেশের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক শূন্যপদের সংখ্যা জুন মাসের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।

এ তালিকা পাওয়ার পর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে পিএসসিতে পাঠানো হবে। আগস্টের মধ্যে দুই হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সরকারি বিদ্যালয়) খালেদা আক্তার বলেন, সারাদেশে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রয়েছে।

মাউশি থেকে শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানোর পর সেটি গুরুত্ব দিয়ে সারাদেশের সৃষ্টপদে শিক্ষকের শূন্য তালিকা চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। দ্রুতসময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

সোনালী/জেআর