গ্যাসের দামে নতুন চাপ, দিশেহারা রাজশাহীর গ্রাহকেরা
স্টাফ রিপোর্টার: মাসের শুরুতেই আবারো দাম বেড়েছে বেসরকারি খাতের তরলিকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি)। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দফায় দফায় দাম বাড়ালেও নির্ধারিত দর কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বাস্তবে বিইআরসির বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। ফলে দেশের অন্য অঞ্চলের মতো রাজশাহী মহানগরীতেও রান্নার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ।
সম্প্রতি নগরীর কাদিরগঞ্জে অবস্থিত যমুনা গ্যাস ডিপোসহ বিভিন্ন খুচরা বাজারে গিয়ে গ্রাহকদের চরম অসন্তোষ দেখা যায়। দাম বৃদ্ধির কারণে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম গ্যাস কিনছেন। এলপিজির এই দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সংকট ও দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বিইআরসি জানায়, গত সোমবার নতুন দাম ঘোষণা করা হয়, যা ওই দিন রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সংস্থাটি গত মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছিল ১,৮৩৭ টাকা, যা বর্তমানে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২,০৬০ টাকা। তবে বিইআরসির এই দাম নির্ধারণ বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিহীন। দেড় মাস ধরে বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছিল ২,২০০ থেকে ২,৩০০ টাকায়। বিইআরসি নতুন করে দাম আরও বাড়ানোর ফলে খুচরা বাজারে এই দর ২,৫০০ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাজশাহী নগরীর বাসাবাড়ির ব্যবহারকারী এবং খাদ্য ব্যবসায়ীরা গণমাধ্যমকে জানান, সরকার দর বাড়ালেই বিক্রেতারা মুহূর্তের মধ্যে বাজার থেকে বাড়তি টাকা আদায় শুরু করেন। নগরীর একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, চাল, ডাল, ময়দাগুলির দাম আগেই বাড়তি ছিল; তার ওপর প্রতিনিয়ত গ্যাসের দাম বাড়ায় রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকান পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। লোকসান এড়াতে হয় পণ্যের দাম বাড়াতে হবে, নয়তো ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হবে। জাতীয় চিত্রও ভিন্ন নয়। রাজধানীর মিরপুর, আগারগাঁও ও খিলগাঁও এলাকার বাজারে ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। সাধারণ ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তিন-চারজনের পরিবারের পেছনে গ্যাস বাবদ খরচ এখন লাগামহীন। ১৮০০ টাকার দর যখন কাগজে-কলমে ছিল, তখনই কিনতে হতো ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকায়। এখন সরকারি দাম দুই হাজার টাকা পার হওয়ায় খুচরা বাজারে তা আড়াই হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
অপরদিকে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি পর্যায় থেকেই তাদের বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। তার ওপর রয়েছে তীব্র সরবরাহ সংকট। ফলে বিইআরসির নির্ধারণ করা দামে পণ্য বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। পাইকারি বাজার ও কোম্পানির কাছ থেকে বেশি দামে গ্যাস কেনার কারণে ক্রেতাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে, যা নিয়ে প্রতিদিন গ্রাহকদের সঙ্গে বচসা ও বাকবিতণ্ডা তৈরি হচ্ছে। ভোক্তাসাধারণ ও সচেতন মহল মনে করছেন, কেবল বিইআরসির পক্ষ থেকে দাম নির্ধারণ করে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। নির্ধারিত দামে বাজারে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না, তা তদারকি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে এলপিজি গ্যাসের এই বাড়তি দর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে।











