ঢাকা | নভেম্বর ৭, ২০২৬ - ১২:২৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরি নিয়ে রাবিতে দুই বিভাগের সংঘর্ষ প্রশাসনকে তদন্তের নির্দেশ

  • আপডেট: Friday, November 6, 2026 - 10:15 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট তৈরি করাকে কেন্দ্র করে নৃবিজ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় উভয় বিভাগের তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার সার্বিক তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় ডিসিপ্লিনারি কমিটিকে দায়িত্ব দিয়ে ১ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীরা হলেন—আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তানভীর হোসাইন এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আলী চৌধুরী আবিদ ও শাওন। আহতদের মধ্যে তানভীরের নাকে ও চোখের নিচে ব্যাডমিন্টন কোর্টের বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হলে রক্তপাত হয়। বাকিদের মধ্যে একজন মাথায় সামান্য ক্ষত এবং একজন হাতে আঘাত পান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পরবর্তীতে হাতে আঘাত পাওয়া শিক্ষার্থীর এক্স-রে এবং মাথায় ব্যান্ডেজ সম্পন্ন করে সবাইকে আবাসস্থলে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা জানান, চিকিৎসাধীন কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনের খালি জায়গায় ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরি নিয়ে দুই বিভাগের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। উভয় পক্ষই দাবি করে যে স্থানটি আগে থেকেই তাদের নির্ধারিত ছিল। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবি, কয়েক দিন আগে তারা সেখানে কোর্ট তৈরি করেছিলেন, সেখানে অন্য কোনো পক্ষের কোর্ট তৈরির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছিল না। অন্যদিকে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, পূর্বে স্থানটি নির্ধারণের জন্য বাঁশ পুঁতে রাখা হলেও আরেকটি অনুষ্ঠানের কারণে সেই বাঁশ সাময়িকভাবে সরানো হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার জুনিয়র শিক্ষার্থীরা নতুন করে কোর্ট তৈরি করতে গেলে কথা-কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগের শিক্ষকরা আলোচনায় বসেন।

এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক পরিস্থিতির জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আহতদের প্রতি সহমর্মিতা জানান। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উক্ত ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি কমিটিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষার্থীকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করে দিয়েছে যে, তদন্ত চলাকালে কিংবা পরবর্তীতে কোনো ধরনের উসকানি বা উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।