ঢাকা | নভেম্বর ৫, ২০২৬ - ২:২৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গোদাগাড়ীতে মাঞ্জহি থান ফিরে পেলেন সাঁওতালরা

  • আপডেট: Wednesday, November 4, 2026 - 11:20 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে গোদাগাড়ীর মহালানপাড়া গ্রামে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের পবিত্র স্থান মাঞ্জহি থান আবার প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে মাঞ্জহি থান পুন:স্থাপনের কাজ শুরু করেন সাঁওতালরা।

মহালানপাড়া গ্রামের সাঁওতালরা জানান, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন যে, মাঞ্জহি থান কেউ দখল করতে পারবে না। এ আশ্বাস পেয়ে তাঁরা গতকাল বুধবার থেকে আবার মাঞ্জহি থান প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছেন।

এদিকে সকালে ওই কাজ পরিদর্শন করেন সেন্টার ফর ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব ভলান্টারি অর্গানাইজেশনের (সিসিবিভিও) নির্বাহী প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা সারওয়ার-ই-কামাল এবং মানবাধিকারকর্মী আরিফ ইথার।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সারওয়ার-ই-কামাল বলেন, উপাসনালয় ভাঙচুর কেবল অপরাধ নয়, এটি আদিবাসীদের অস্তিত্ব ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত। প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসের দ্রুত ও দৃশ্যমান বাস্তবায়ন আমরা দেখতে চাই। আদিবাসী সম্প্রদায়ের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও নিরাপত্তার লড়াইয়ে তাঁদের পক্ষ থেকে আইনি সহযোগিতার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন সারওয়ার-ই-কামাল।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, সাঁওতালরা গাছের নিচে একটি পাথর রেখে ধর্মীয় আচার পালন করেন। সেটিই তাঁদের পবিত্র স্থান। ইউএনও এবং পুলিশকে বলে দেয়া হয়েছে, তাঁরা যেন শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন। জায়গা কেউ দখলে নিতে পারবে না।

গোদাগাড়ীর ইউএনও ইসরাত জাহান বলেন, মাঞ্জহি থান পুরোপুরি ভাঙেনি। সেটা কোনো স্থাপনাও নয়। তাই আইনি কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তবে যিনি ওই জমি চাষ করতে গিয়েছিলেন, তাঁকে শক্তভাবে বলে দেয়া হয়েছে, তিনি যেন এ ধরনের কাজ আর না করেন। ভবিষ্যতে একই ঘটনা ঘটালে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, মাঞ্জহি থানটি ২৪ নম্বর দাগে অবস্থিত। এর পাশে ইসমাইল সরকার ক্রয়সূত্রে ৫৯ নম্বর দাগের চার বিঘা জমির মালিক। মাঞ্জহি থানের জমি আলাদা বেড়া দিয়ে ঘেরা ছিল। গত সোমবার ইসমাইল সরকার ও তাঁর ভাই ইব্রাহিম সরকার ট্রাক্টর দিয়ে মাঞ্জহি থানের জমির বেড়া ভেঙে জমিটি দখলের চেষ্টা করেন এবং সেখানে ভাঙচুর চালান। ঘটনার সময়ই বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। পরে তাঁর নির্দেশে কাঁকনহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ইসমাইল সরকারকে জমি দখলে বাধা দেয়। পরদিন সাঁওতালদের পক্ষে সুখেন মার্ডি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।