ঢাকা | অক্টোবর ৪, ২০২৬ - ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

ঝুঁকিপূর্ণ ২৬ ভবনে চলছে পাঠদান ৪৫ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

  • আপডেট: Saturday, October 3, 2026 - 10:31 pm

চারঘাট প্রতিনিধি: চারঘাট উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা ২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে চলছে পাঠদান। এসব ভবনের অধিকাংশই পাঁচ থেকে ১০ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও এখনো বিকল্প ব্যবস্থা হয়নি।

কোথাও ছাদে ফাটল, কোথাও খসে পড়ছে ঢালাই। আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ে ফ্যানসহ ভবনের বিভিন্ন অংশ খুলে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে ঝুঁকি নিয়েই শ্রেণিকক্ষে বসতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

শুধু ভবন সংকট নয়, শিক্ষক সংকটও প্রকট। উপজেলার ৭৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৫টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যেতে গিয়ে তাঁদের ওপরও বাড়ছে কাজের চাপ।

সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীর চাপ বেশি এমন অনেক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা কম। আবার কোথাও নতুন ভবন নির্মাণ হলেও শিক্ষার্থীসংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় ভবনের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। নতুন ভবন বরাদ্দে প্রয়োজনভিত্তিক পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে একদিকে অব্যবহৃত থাকছে কিছু ভবন, অন্যদিকে শিক্ষার্থী বেশি থাকা বিদ্যালয়গুলোতে তৈরি হয়েছে তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকট।

১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হাবিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯৯৩ সালে নির্মাণ করা হয় একতলা একটি ভবন। ২০১৮ সালে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। এরপরও তিন কক্ষের ওই ভবনেই চলছে ২১৮ শিক্ষার্থীর পাঠদান। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মাত্র ১৭ সেট বেঞ্চ। ভবন নির্মাণের সময় পাওয়া ৩৯ সেট বেঞ্চের মধ্যে ২২ সেট ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বেঞ্চ সংকটও রয়েছে প্রকট।

সম্প্রতি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে ছাদের রডসহ একটি ফ্যান খুলে পড়ে এক সহকারী শিক্ষিকার শরীরে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পর বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ১৯৯৪ সালের পর বিদ্যালয়ে নতুন বেঞ্চও দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ভাঙা ভবনে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমছে।

ধর্মহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুই শতাধিক। তাদের জন্য শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র তিনটি। এসব শ্রেণিকক্ষ যে ভবনে, সেটিও প্রায় ১০ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের ছাদে ফাটল ধরেছে। মেঝের বিভিন্ন স্থানে উইপোকা মাটি তুলে বাসা বেঁধেছে। এমন অবস্থার মধ্যেই চলছে পাঠদান।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বজলুর রশীদ বলেন, শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি শৌচাগারও ঝুঁকিপূর্ণ। দুই শতাধিক শিক্ষার্থী তিনটি ভাঙা শ্রেণিকক্ষে গাদাগাদি করে ক্লাস করছে। মাঝে মধ্যে ছাদের ঢালাইয়ের অংশও খসে পড়ে। খোর্দগোবিন্দপুর, ভাটপাড়া, ইউসুফপুর ও মেরামতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার মোট ২৬টি বিদ্যালয়ে প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে।

উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মখলেসুর রহমান বলেন, ৪৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকরা রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন। মামলাসহ নানা কারণে পদগুলো খালি ছিল। দ্রুত প্রধান শিক্ষক পদায়ন হবে বলে আমরা আশ্বাস পেয়েছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও শিক্ষক সংকটের কারণে পড়াশোনায় কিছুটা প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবন অপসারণ ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের কাজও চলছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীসংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে শ্রেণিকক্ষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকা প্রধান শিক্ষকের পদগুলো পূরণ করা না হলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে চাপ আরও বাড়তে পারে।