ঢাকা | সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ - ১১:৪৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

চট্টগ্রামে দুর্ঘটনায় ২ সেনা নিহত: রাজশাহীতে রিফাতের বাড়িতে শোকের ছায়া

  • আপডেট: Wednesday, September 9, 2026 - 10:35 pm

স্টাফ রিপোর্টার: চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের অনুশীলনের সময় আকস্মিক বিস্ফোরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত এবং এক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার দুপুরে সংঘটিত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে সৈনিক (গানার) তাসনিম রিফাত (২৮)-এর বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলায়। তাঁর মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবার ও স্বজনদের কান্না থামছে না, গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল বুধবার বেলা ১২টার দিকে হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ার রেঞ্জে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনাবশত ট্যাংকের ভেতরেই গোলা বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই সৈনিক নিহত হন এবং এক জন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন।

আহত কর্মকর্তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

নিহত সেনাসদস্যদের মধ্যে তাসনিম রিফাত রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আসাদুল ইসলামের ছেলে। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মড কোরে কর্মরত রিফাত চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ১৫ স্বতন্ত্র সাঁজোয়া স্কোয়াড্রনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি স্ত্রী ও এক ছোট কন্যাসন্তান নিয়ে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সরকারি বাসভবনে বসবাস করতেন। মাত্র তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে রিফাতের মা মারা যান।

মায়ের শোক কাটতে না কাটতেই ছেলের এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে।

বুধবার দুপুরে মৃত্যুসংবাদ পৌঁছানোর পর থেকে বিন্দারামপুরের বাড়িতে প্রতিবেশী ও স্বজনেরা ভিড় জমান। স্বজনেরা জানান, রিফাতের প্রথম জানাজা বুধবার রাত ১০টায় চট্টগ্রাম সেনানিবাসের জসিম হলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ ঢাকায় নেয়ার পর রাজশাহী সেনানিবাসে আনা হবে এবং আজ বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এখন নিজ গ্রামে নিথর দেহ ফেরার প্রতীক্ষায় স্বজনেরা দিন গুণছেন।