ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ - ১১:১৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

রাজশাহী বিভাগে আগস্টে ১৮৭৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত

  • আপডেট: Tuesday, September 1, 2026 - 10:50 pm

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আগস্ট মাসজুড়ে বিভাগজুড়ে মোট ১ হাজার ৮৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বিভাগের আটটি জেলায় ১ হাজার ৩৩৯ জন এবং তিনটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন ৫৩৫ জন।

সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, জেলা হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেঙ্গুর মূল হটস্পটে পরিণত হয়েছে, আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যার বিচারে শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। আগস্টজুড়ে এ বিভাগে মোট দুইজনের প্রাণহানি ঘটেছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আটটি জেলার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সর্বোচ্চ ৬৪৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

এছাড়া সিরাজগঞ্জে ৩৬৩, বগুড়ায় ১৬৫, নাটোরে ৫৬, পাবনায় ৪২, নওগাঁয় ৪১, রাজশাহীতে ২৫ এবং জয়পুরহাটে ৪ জন রোগী আগস্টে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যদিকে, তিনটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে রামেক হাসপাতালে ২২৮ জন (দুইজনের মৃত্যুসহ), সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২১৯ জন এবং বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৮ জন ভর্তি ছিলেন।

আক্রান্তের হঠাৎ বৃদ্ধিতে হাসপাতালগুলোর ডেঙ্গু কর্নার ও সাধারণ ওয়ার্ডে জায়গা সংকট তৈরি হয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেককে করিডোরে মশারি টাঙিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে চিকিৎসাসেবা ভালো হলেও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও স্থানসংকটে ক্ষোভ জানিয়েছেন রোগীরা। এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আরএমও ডা. মাহবুব হাসান জানান, বৃষ্টির কারণে রোগী বেড়েছে। ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পর্যাপ্ত রয়েছে এবং গুরুতর রোগীদের রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাসের শুরুতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৮ জন, যা ৩০ আগস্টে গিয়ে দাঁড়ায় ৫০ জনে। অর্থাৎ এক মাসে রোগী বৃদ্ধির হার ৫২৫ শতাংশ। রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ জানান, ৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের আব্দুল হান্নান (৩৯) মারা যান। এর আগে ১১ আগস্ট আরও একজনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ৩১ আগস্ট ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২৫ জন রোগী ভর্তি হলেও বাড়ি ফিরেছেন ১৭ জন।

রাজশাহী বিভাগের স্বাস্থ্য দপ্তরের জরিপে শহরের লার্ভা পরিস্থিতির ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। ৩ থেকে ১০ আগস্ট নগরীর পাঁচটি এলাকায় পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, পরিদর্শিত ৭৫টি বাড়ির মধ্যে ২৪টিতেই এডিস মশার লার্ভা মিলেছে। বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাবিবুর রহমান জানান, ব্রেটো সূচক ২০-এর বেশি হলে উচ্চঝুঁকি ধরা হয়, যা রাজশাহীতে ৬১ দশমিক ৩৩-এ পৌঁছেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে সতর্ক করে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমিন গণমাধ্যমকে জানান, জেলার বেশিরভাগ রোগী ঢাকা ও গাজীপুরের কর্মস্থল থেকে আক্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরছেন। বিশেষ করে কাজীপুর উপজেলায় চাপ বেশি থাকায় আলাদা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন জানান, মাইকিং ও মসজিদে ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ চলছে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও সচেতনতা নিশ্চিত করা না গেলে সামনে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।