ঢাকা | সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ - ১১:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম

শিশুসহ দু’জনের মৃত্যু: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘরে ঘরে ডেঙ্গু রোগী

  • আপডেট: Tuesday, September 1, 2026 - 10:37 pm

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে।

আর ৪ জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আর ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত প্রাক-প্রাথমিকের এক শিক্ষার্থীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যা ও সোমবার ভোরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

মৃতরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ইসলামপুর মহল্লার আমির চাঁন’র ছেলে ও রাহমানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থী রাব্বিল ও সদর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল হান্নান (৩৯)।

অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আরএমও ডাঃ মাহাবুব হাসান জানান, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলা হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৭১ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। আর ২০ জন রোগীকে সুস্থতার জন্য ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

রাব্বিলের মা আনোয়ারা খাতুন জানান, দুইদিন ধরে তীব্র জ্বরে আক্রান্ত ছিল রাব্বিল। রোববার তাকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

রাত ১১টার দিকে আইসিইউতে নেয়ার পর সোমবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। রাহমানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিল্পী বেগম বলেন, বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, গত রোববার ভোর ৩টা ৫৪ মিনিটে রামেক হাসপাতালে ভর্তি হন আব্দুল হান্নান। সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামিম আহমেদ জানান, দুজনকেই গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, সন্দেহভাজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত যে শিশুটি (রাব্বিল) মারা গেছে তাকে খুব খারাপ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে আইসিইউ-তে নিয়েও বাঁচানো যায়নি।

এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌরসভার দৃশ্যমান সচেতনতামূলক কার্যক্রম নেই বললেই চলে। এতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ-আশঙ্কা। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়াতে দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা

জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এ.কে.এম শাহাব উদ্দিন জানান, ডেঙ্গুর প্রার্দুভাব প্রতিরোধে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পৌরসভা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরসহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় ডেঙ্গু প্রবণ এলাকায় ক্রাস প্রোগ্রাম হিসেবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিসহ উদ্বুদ্ধকরণ সভা করা হবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের এ পর্যন্ত সর্বমোট ৭৯৬ জন জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।