ঢাকা | অগাস্ট ২৬, ২০২৬ - ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম

বেসরকারি প্রাথমিকে অন্যায় ফি বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে: রাজশাহীতে ববি হাজ্জাজ

  • আপডেট: Tuesday, August 25, 2026 - 10:46 pm

স্টাফ রিপোর্টার: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্যপদগুলোতে শিগগিরই নিয়োগ দেয়া হবে। পাশাপাশি বেসরকারি কোনো প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে বাড়তি অর্থ আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে। অতিরিক্ত ফি আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী পিটিআই সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রাথমিক শিক্ষার একটি নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি সব প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের জন্য খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন পে-স্কেল তৈরির কাজ চলছে, যা বাস্তবায়িত হলে সবাই সন্তুষ্ট হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এর আগে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কর্মশালার মূল উদ্দেশ হলো প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় চলমান ও ভবিষ্যৎ সংস্কার সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবহিত করা এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামত গ্রহণ করা। বিদ্যালয় মনিটরিং, শিক্ষক ও প্রশাসন ব্যবস্থাপনা, পাঠ্যক্রম সংস্কার, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, শ্রেণিকক্ষ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং আসবাবপত্রসহ প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেবল সরকারি নয়, দেশের সব ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কাগুজে প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর না করে বিদ্যালয়ের প্রকৃত অবস্থা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিখনফল যাচাই করা হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শই হবে এসব সংস্কার কার্যক্রমের মূল ভিত্তি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরবর্তী ১৮০ দিনের কর্মসূচি ও সরকারের পাঁচ বছরের অঙ্গীকার পূরণে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রত্যেক শিশু যেন বিদ্যালয়ে আসে এবং সঠিক শিক্ষা পায়। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রাথমিক শিক্ষায় যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তা সফল করতে মাঠপর্যায়ের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। এসময় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।