ঢাকা | অগাস্ট ১১, ২০২৬ - ১২:৩০ পূর্বাহ্ন

মান্দায় হানিট্র্যাপে ফেলে ‘নগ্ন ভিডিও’ ধারণ, গ্রেপ্তার ৩

  • আপডেট: Monday, August 10, 2026 - 10:47 pm

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: মান্দা উপজেলা এলজিইডির এক কার্য সহকারীকে হানিট্র্যাপে ফেলে টিনসেডের ঘরে নিয়ে ‘নগ্ন ভিডিও’ ধারণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি বাদী হয়ে গত রোববার পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, উপজেলার কুসুম্বা গ্রামের বিমল চন্দ্র দাসের ছেলে কনক কুমার (৩০), কুসুম্বা দক্ষিণপাড়া গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (২৮) ও বড়পই গ্রামের তছির আলীর মেয়ে তানজিমা খাতুন (৪৪)। মামলার অন্য আসামীরা পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ আগস্ট সকালে কুসুম্বা মসজিদের কাছে ওই কর্মচারীকে ডেকে নেন কয়েকজন ব্যক্তি। তাঁরা চা খাওয়ার কথা বলে তাঁকে একটি টিনসেডের ঘরে নিয়ে যান। সেখানে চা ও সিগারেট খাওয়ার পর মাথা ঘুরতে শুরু করলে তাঁকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যান অভিযুক্তরা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই কক্ষে নগ্ন এক নারী তাঁকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেন এবং এসব দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করছিলেন এক ব্যক্তি। এতে আপত্তি করলে তাঁকে মারধর করেন অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে জোর করে তাঁর পোশাক খুলে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগী ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর কাছ থাকা ১১ হাজার ৯০০ টাকা জোরপূর্বক কেড়ে নেয়। পরে আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকার জন্য তাঁর স্বাক্ষর করা একটি চেকে ওই পরিমাণ টাকা লিখে নেওয়া হয়। আরেকটি চেকে টাকার অঙ্ক ফাঁকা রেখে স্বাক্ষর নেওয়া হয় ভুক্তভোগী ব্যক্তির কাছ থেকে। এছাড়া তাঁর চেকবইয়ের অবশিষ্ট পাতাগুলো এবং তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পেও স্বাক্ষর নেয়া হয় বলে অভিযোগ।

পরদিন ৯ আগস্ট ওই চেক দিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য মান্দা উপজেলার সতিহাটে অগ্রণী ব্যাংকের শাখায় যান অভিযুক্তরা। এর আগে ভুক্তভোগী ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই হিসাবের লেনদেন সাময়িক বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করেন। ফলে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে না পেরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সেখানে অবস্থান করছিলেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কনক কুমার ও সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় আরও দুজন পালিয়ে যান। পুলিশ ব্যাংক থেকে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা চেকটি জব্দ করে। পরে গ্রেপ্তার আসামিদের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ প্রসঙ্গে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, গ্রেপ্তার আসামি ও তাদের সহযোগীরা গত ৭ আগস্ট ফয়জুল মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে একই কায়দায় ট্র্যাপে ফেলে ৬০ হাজার টাকা ও একটি অ্যানড্রোয়েট ফোন কেড়ে নেয়। এসব ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের গতকাল সোমবার আদালতের মাধ্যমে নওগাঁ কারাগারে পাঠানো হয়।