ঢাকা | অগাস্ট ১১, ২০২৬ - ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

বাঘাতে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ

  • আপডেট: Monday, August 10, 2026 - 10:40 pm

বাঘা প্রতিনিধি: বাঘায় চলছে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি। গত কয়েকদিন ধরে গরমের সঙ্গে তীব্র হয়ে উঠেছে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অসহনীয় লোডশেডিং। এতে অতিষ্ঠ বাঘা উপজেলাবাসী। ফলে সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বিঘ্নিত হচ্ছে এলাকাবাসীর দৈনন্দিন জীবন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ঝাড়ছেন অনেকেই। বিষয়টি স্বীকার করে বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃপক্ষ জানায়, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ তিন ভাগের এক ভাগে নেমে আসায় লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

কেবলমাত্র বাঘা উপজেলা সদরে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও  গ্রাম অঞ্চল গুলোর অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। বেশিরভাগ সময় থাকে না বিদ্যুৎ। কোথাও এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর পর দেয়া হয় বিদ্যুৎ। আবার কখনোও টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকে না বিদ্যুৎ। এতে চরম দুর্ভোগে রয়েছে সাধারণ মানুষ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা বাড়ি ও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি অফিসে নষ্ট হচ্ছে কর্ম ঘণ্টা। বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে।

এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিং হলেও গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল আসছে বেশি। এ নিয়ে  রয়েছে গ্রাহকদের অনেক অভিযোগ। তাছাড়া  ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ না থাকা স্বাভাবিক ঘটনা হলেও, আকাশে মেঘ উঠতেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাংস্কৃতি চালু রয়েছে বাঘাতে। ঝড়বৃষ্টির রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হলে আর চালু হওয়ার কোনো আশাই থাকে না। ফলে বিদ্যুৎ নিয়ে ধোঁয়াশা আর ভোগান্তির মধ্যে আছেন বাঘাতে। ঘন ঘন বিদ্যুত আসা যাওয়ার কারণে অনেকের ফ্রিজ, টেলিভিশন, ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া অসহ্য গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবার দাবি করে আসলেও ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলছে না গ্রাহকদের।

নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর বাঘা জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় তিনটি বিদ্যুৎ গ্রাহক পরিচালনা অফিস। বাঘা জোনাল অফিসের অধীনে আড়ানী, জোতরাঘব এবং চকরাজাপুর উপকেন্দ্র রয়েছে। এ অফিসের অধীনে ৭০ হাজার ১৫৭ জন গ্রাহক রয়েছে। প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা রাতে ১৮ মেগাওয়াট। সরবরাহ ১১ মেগাওয়াট। প্রতিদিন ঘাটতি ৮ মেগাওয়াট। দিনে চাহিদা ১০ মেগাওয়াট। সরবরাহ ৭ মেগাওয়াট। ঘাটতি ৩ মেগাওয়াট। এই ঘাটতি পুরণের কারনে অনবরত লোড-শেডিং করাচ্ছে, রাত নেই, দিন নেই, সময়ে অসময়ে। জাতীয় উৎপাদন সঙ্কটের কারনেই লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। তাই সকল গ্রাহকের প্রতি দুঃখ প্রকাশ এবং ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।