ঢাকা | জুলাই ২১, ২০২৬ - ৬:২৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম

মোহনপুরের ঐতিহ্য পানের স্থায়ী প্রতীক উন্মোচন

  • আপডেট: Monday, July 20, 2026 - 10:26 pm

মোহনপুর প্রতিনিধি: জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি মোহনপুরের পানের ঐতিহ্য এবার পেল দৃশ্যমান পরিচয়। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার প্রবেশমুখে নির্মিত হয়েছে পানের প্রতীক সম্বলিত সীমানা পিলার। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই প্রতীকী স্থাপনা শুধু উপজেলার সীমানা নির্দেশ করবে না, বরং কৃষিনির্ভর ঐতিহ্য, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও ব্র্যান্ড পরিচিতিকে আরও সুদৃঢ় করবে।

সোমবার সকালে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের বসন্তকেদার এলাকায় রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের পাশে নির্মিত সীমানা পিলারের ফলক উন্মোচন করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি উপজেলার প্রবেশমুখে একটি পরিচয়বাহী সীমানা পিলার থাকা প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে মোহনপুরের এই সীমানা পিলারের উদ্বোধন করা হলো। জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃত মোহনপুরের পান এ উপজেলার ঐতিহ্য, অর্থনীতি ও স্বাতন্ত্র্যের অন্যতম প্রতীক। তাই সীমানা পিলারে পানের প্রতীক সংযোজনের মাধ্যমে উপজেলার নিজস্ব পরিচয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সীমানা পিলারের পাশে ‘এক নজরে মোহনপুর’ শীর্ষক একটি তথ্যসমৃদ্ধ ব্যানার স্থাপনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে মোহনপুর উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী তারিকুল ইসলাম, মৌগাছি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মেজর আলী বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। মৌগাছি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মেজর আলী বিশ্বাস বলেন, এই সীমানা পিলার নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করা হয়েছে। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এতদিন তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে এলাকাবাসীর সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। পানের প্রতীক সংযোজনের মাধ্যমে মোহনপুরের পরিচয় আরও শক্তিশালী হলো।

পরে তিনি কেশরহাটের ঝালপুকুর ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠী পল্লী পরিদর্শন করেন। এরপর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বাস্তবায়নাধীন “বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)” শীর্ষক কর্মসূচির আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা পরিষদ হলরুমে বিকেল ৪টায় আয়োজিত আলোচনা সভা ও উপকারভোগীদের মাঝে বসতঘর, সেলাই মেশিন, বাইসাইকেল এবং শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব ফাহিমা বিনতে আখতার।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, মোহনপুর উপজেলার প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জীবনমান উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সরকারের উন্নয়ন সহায়তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপকারভোগীদের স্বাবলম্বি করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগীদের মাঝে বসতঘর, সেলাই মেশিন, বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ করা হয়।

এসময় মোহনপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা এবং সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (গোপনীয় শাখা) ইয়াছিন মিয়াসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন।